ইফতে খায়রুল আলম সজিব, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি::
দুই বছর আগের অভিনব কায়দায় সংঘটিত ৪ লাখ টাকা চুরির রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ময়মনসিংহ। ঘটনায় মো. হান্নান মিয়া (৬৫) নামের এক আন্তঃজেলা চোরকে ঢাকার চকবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৯ নভেম্বর দুপুর ১টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের ছোট বাজার এলাকায় শামছুল আলম (৬৫) জনতা ও পূবালী ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর জনতা ব্যাংক থেকে বের হয়ে লিমা প্রিন্টিং প্রেসের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তার শরীরে কাদা ছিটিয়ে দেয়।
এক ব্যক্তি তাকে কাপড় ময়লা হওয়ার কথা জানালে তিনি ব্যাগ পাশে রেখে কাপড় পরিষ্কার করতে যান। এই সুযোগে চক্রটি টাকা ভর্তি ব্যাগটি চুরি করে পালিয়ে যায়। শামছুল আলম তখন কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর- ৪৫(১১)২২, ধারা ৩৭৯)।
কোতোয়ালী থানা পুলিশ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলে আদালতের নির্দেশে পিবিআই ময়মনসিংহ তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ বিল্লাল মিয়া সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় চোর শনাক্ত করেন।
অবশেষে ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর চকবাজার এলাকা থেকে হান্নান মিয়াকে গ্রেফতার করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে সে ৪ লাখ টাকা চুরির ঘটনা স্বীকার করে এবং পরদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পিবিআই জানায়, হান্নান একটি আন্তঃজেলা চোর দলের সক্রিয় সদস্য, এবং সে দেশের বিভিন্ন জেলায় একই কায়দায় চুরি করে থাকে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, “জনাকীর্ণ এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রকৃত আসামিকে শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে আমরা দীর্ঘদিনের চেষ্টায় প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”
Revolt News BD