নতুন বছরের শুরুতেই ক্রিকেটের বিশ্বে ‘রিটায়ার্ড আউট’ নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান বিগ ব্যাশে মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে চার নম্বরে নেমে ২৩ বলে ২৬ রান করার পর ১৯তম ওভারের আগে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। চোট ছাড়া অন্য কোনো কারণে ব্যাটসম্যানকে স্বেচ্ছায় বা নির্বাচিতভাবে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়াকে ক্রিকেটের পরিভাষায় রিটায়ার্ড আউট বলা হয়। রিজওয়ানের ক্ষেত্রে তার স্থলে নামেন উইল সাদারল্যান্ড, যিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাত্র একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন।
রিজওয়ানের মতো এই ধরনের ঘটনা চলতি বছরে আরও সাতবার ঘটেছে। ৩ জানুয়ারি বিগ ব্যাশে নিক ম্যাডিনসন নিজে মাঠ থেকে চলে যান। নিউজিল্যান্ডের সুপার স্ম্যাশ টুর্নামেন্টে তিনবার, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএটুয়েন্টিতে একবার এবং ভারতে নারী আইপিএলে আয়ুশি সনি ও হারলিন দেওলকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
তবে এই কৌশলের ফলাফল এখনও খুব সফল বলে মনে হয় না। মোট আটবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র দুইবার দল জিতেছে। নতুন নামা ব্যাটসম্যানরা বিশেষ কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। উদাহরণস্বরূপ, প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস যখন রোস্টন চেজকে ১৫ বলে ২৪ রানে রিটায়ার্ড আউট করে, তখন তার স্থলাভিষিক্ত শেরফান রাদারফোর্ড দ্বিতীয় বলেই আউট হয়ে যান। একইভাবে, নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসে টিম প্রিঙ্গলকে তুলে নেওয়ার পর নতুন ব্যাটসম্যান মাত্র ১ রান করতে পেরেছেন।
তবে শুধু ফলাফলের দিক থেকে নয়, খেলোয়াড়ের ফর্ম এবং দলের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেও এই কৌশল নেওয়া হয়। রিজওয়ানের ম্যাচটিই উদাহরণ; জুটিতে সঙ্গে থাকা অলরাউন্ডার হাসান খান ২৩ বল খেলে ৩৬ রান করেছিলেন, যা রিজওয়ানের চেয়ে বেশি। রিজওয়ানের টাইমিং ঠিক না হওয়ায় তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। নতুন বছরের শুরুতে এই রিটায়ার্ড আউট কৌশল ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ এবং সমর্থকদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে এবং খেলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
Revolt News BD