ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গোপন বন্দিশালার আলামত ধ্বংস করেছে বাহিনীগুলো: গুম কমিশন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 5, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

 দেশে গোপন বন্দিশালার আলামত কমবেশি প্রতিটি বাহিনীই ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছে গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে কমিশন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মাইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কোন বাহিনী সবচেয়ে বেশি আলামত ধ্বংস করেছে—এমন নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন, কারণ লিখিতভাবে জানানো তথ্যে দেখা গেছে প্রায় সব বাহিনীই কোনো না কোনোভাবে আলামত নষ্ট করেছে। তিনি জানান, কমিশন পরিদর্শনের পর যেন আর কোনো আলামত ধ্বংস না করা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুরুতে কমিশনের কাজে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টরা সহযোগিতা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মাইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় গোপন বন্দিশালার সন্ধান পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমিশন সেগুলো পরিদর্শন করে অপরিবর্তিত অবস্থায় সংরক্ষণের নির্দেশ দেয় এবং কমিশন গঠনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ডিজিএফআইয়ের জেআইসি (আয়নাঘর) ও র‍্যাব সদর দপ্তরের টিএফআইসি পরিদর্শন করে আলামত ধ্বংসের প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিক বন্ধ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করা হয়েছে এবং আগের সরকারগুলোর পাশাপাশি সদ্য বিদায়ী সরকার এ ক্ষেত্রে আরও বেশি মাত্রায় জড়িত ছিল। তিনি বলেন, পুলিশের কাজ দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, আর সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব যুদ্ধের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সেনা কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা উচিত। পাশাপাশি ডিজিএফআই ও এনএসআই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব সংস্থাকে তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে রাজনীতিতে জড়ানো থেকে বিরত রাখতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে কমিশন জানায়, জমা পড়া অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সক্রিয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫১ জন গুম এবং ৩৬ জনের গুম-পরবর্তী মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, আর এসব ঘটনার তদন্তে শত শত ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Revolt News BD

কমেন্ট বক্স