প্লেনের টিকিটের মূল্য আরও কমা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে ‘ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা জানান, তার লক্ষ্য কেবল টিকিটের দাম কমানো নয়, বরং টিকিটের মূল্যকে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে টিকিটের দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমেছে, তবে সেটিও এখনো যৌক্তিক নয় বলে তার মনে হয় এবং এ ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীলতার সঙ্গে মূল্য নির্ধারণ প্রয়োজন। শেখ বশিরউদ্দীন আরও বলেন, নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশটি প্লেনের টিকিট সিন্ডিকেট ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে যে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তা রোধ করতেই এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, এয়ার অপারেটর, জিডিএস, এনডিসি, ট্রাভেল জিএসএ ও ট্রাভেল এজেন্ট—সব অংশীজনকে জবাবদিহির আওতায় এনে সিন্ডিকেটভিত্তিক অনিয়ম বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে দুর্বৃত্তরা সহজে এসব কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে। অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেই এমন একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সিন্ডিকেশন গড়ে ওঠার পথে সর্বোচ্চ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ক্যাটাগরি থ্রি-তে উন্নীত করার চিন্তাভাবনার কথাও জানান উপদেষ্টা। সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব নাসরীন জাহান বলেন, সংশোধিত অধ্যাদেশে শাস্তি ও জরিমানার বিধান কঠোর করা হয়েছে এবং গুরুতর অপরাধ ও প্রতারণার ক্ষেত্রে নিবন্ধন সনদ স্থগিতসহ অভিযুক্ত ব্যক্তির দেশত্যাগে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে ট্রাভেল এজেন্সি খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে, ভোক্তা ও প্রবাসী কর্মীদের আস্থা বাড়বে এবং সরকার একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ভ্রমণ ও পর্যটন খাত গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
Revolt News BD