মো. আব্দুল্লাহ আনন্দ,কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:: জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কাউনিয়া উপজেলার যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ। উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে টানা চার দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ বন্ধ থাকায় ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষ ও ভ্রমণপ্রত্যাশীরা পড়েছেন বিপাকে।
রবিবার (২৯ মার্চ) উপজেলার মা সুফিয়া ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, টানা কয়েক দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রয়েছে। অল্প পরিমাণে ডিজেল সরবরাহ এলেও তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না।
স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কেবল স্বল্প পরিমাণ ডিজেল দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
উপজেলা ও পৌর এলাকায় মাত্র দুটি ফিলিং স্টেশন থাকায় সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্টেশনগুলোতে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখতে হচ্ছে, যা জনভোগান্তি বাড়িয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ঈদের সময়ে এমন পরিস্থিতি তাদের চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। মোটরসাইকেল চালক আমজাদ হোসেন বলেন, “তেল নিতে এসে দেখি পাম্প বন্ধ। জরুরি কাজেও যেতে পারছি না।” একইভাবে স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা থেকে গ্রামে এসে কোথাও পেট্রোল পাচ্ছি না—পরিবার নিয়ে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।”
পরিবহন চালক রাজিব জানান, “যে পরিমাণ ডিজেল আসে, তা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যায় না।”
এদিকে, জ্বালানি সংকটের কারণে কৃষক ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাড়তি ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে চলাচল করছেন।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন,“জ্বালানি সংকটের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে খুব দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।"
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ডিপো থেকে জ্বালানি বরাদ্দ বৃদ্ধি না করলে জনজীবন ও কৃষিকাজে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
Revolt News BD