জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত হয়ে রায়েরবাজার কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়া ১১৮ জন শহীদের মধ্যে আটজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এই পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রেস সচিব বলেন, রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা মরদেহগুলো উত্তোলনের পর ডিএনএ স্যাম্পল পরীক্ষার মাধ্যমে আট শহীদের পরিচয় নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের পরিবারকে ইতোমধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য খুব শিগগিরই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশ করবে। সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি শহীদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের যথাযথ সম্মান প্রদান করা।
শফিকুল আলম আরও জানান, শহীদদের পরিচয় শনাক্ত করার এই জটিল ও সংবেদনশীল কাজে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। বসনিয়া যুদ্ধের সময় সেব্রেনিৎসায় যে আধুনিক পদ্ধতিতে নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছিল, বাংলাদেশেও সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ওই অভিজ্ঞতার আলোকে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং দেশীয় কয়েকজন বিশেষজ্ঞকেও ডিএনএ বিশ্লেষণে দক্ষ করে তোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য একটি প্রক্রিয়া হলেও সরকার প্রতিটি শহীদের পরিচয় নির্ধারণ এবং পরিবারগুলোর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। রায়েরবাজারে দাফন হওয়া বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের কাজও পর্যায়ক্রমে চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।
Revolt News BD