ঢাকা | বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানকে সমবেদনা জানালেন জামায়াত আমির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 1, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

  

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে তিনি এই সমবেদনা জানান এবং সেখানে সংরক্ষিত শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদসহ বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইতিহাসের এক বিরল সম্মান নিয়ে খালেদা জিয়া পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তার বিদায়ে মানুষ যে আবেগ, ভালোবাসা ও চোখের পানির মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছে, তা ছিল তার প্রাপ্য। জাতির জন্য তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে সেটারই প্রতিদান তিনি পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি আরও বলেন, এই বিদায় আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়—আমরাও যদি জাতির জন্য সঠিকভাবে কাজ করতে পারি, তাহলে মানুষ এমন সম্মানজনক বিদায় দেবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। সামনে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের এই নির্বাচন যেন নির্বিঘ্ন ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে বিষয়ে তাদের আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, দেশের স্বার্থে অতীতেও বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে—এমন প্রত্যাশাই উভয় পক্ষ ব্যক্ত করেছে। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে বসে খোলা মনে আলোচনা করতে হবে এবং নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আগেই জাতীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। খালেদা জিয়া যে ঐক্যের ভিত্তি রেখে গেছেন, তার ওপর দাঁড়িয়েই সবাই দায়িত্ব পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে বুধবার বিকেলে সংসদ ভবনের মাঠ ও সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং লাখো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে বিশেষ বাহনে করে তাকে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে দাফন করা হয়।

দীর্ঘ ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে খালেদা জিয়া রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হন, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। চিকিৎসার অভাবে তার শরীরে একাধিক জটিল রোগ বাসা বাঁধে। পরে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও তিনি গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় কার্যত গৃহবন্দি ছিলেন। ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার পতনের পর তিনি মুক্তি পান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। দেশে ফেরার পর তার স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হলেও বয়স ও নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং এক মাসের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার ভোরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


 


নিউজটি আপডেট করেছেন : Revolt News BD

কমেন্ট বক্স