ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি আহ্বান উপেক্ষা করে কম্বোডিয়ায় অভিযান অব্যাহত রাখবে থাইল্যান্ড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 13, 2025 ইং
Thailand ছবির ক্যাপশন: Thailand
ad728
   

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। 
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, থাইল্যান্ডের ভূখণ্ড ও জনগণের জন্য সব ধরনের ক্ষতি ও হুমকি সম্পূর্ণভাবে দূর না হওয়া পর্যন্ত দেশটির সামরিক পদক্ষেপ চলবে এবং এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আবারও পুরোনো সীমান্ত সংঘাত নতুন করে জ্বলে ওঠে, যার সূচনা হয় সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে থাই সেনাদের হতাহতের ঘটনার পর। এর মধ্যেই শুক্রবার রাতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, তার মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ গুলিবর্ষণ বন্ধে সম্মত হয়েছে এবং সন্ধ্যা থেকেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেটের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সহায়তায় অক্টোবরে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, রাস্তার পাশে বিস্ফোরণে থাই সৈন্য নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনাটি ছিল একটি দুর্ঘটনা। তবে এই বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন থাই প্রধানমন্ত্রী। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ঘটনাটি কোনোভাবেই দুর্ঘটনা নয় এবং এটিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তার এই অবস্থানের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ট্রাম্পের ঘোষণার পরও বাস্তব পরিস্থিতিতে সংঘাত থামেনি।
সংঘাতের মাত্রা যে কমেনি, তার প্রমাণ মিলছে সাম্প্রতিক হতাহতের পরিসংখ্যানে। থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুরসান্ত কংসিরি জানিয়েছেন, শনিবার চং আন মা এলাকায় চারজন থাই সেনা নিহত হয়েছেন। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া নতুন দফার লড়াইয়ে এ পর্যন্ত থাই বাহিনীর নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ছয় দিন ধরে চলা এই সংঘাতে উভয় দেশ মিলিয়ে ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে প্রায় ২০০ জন। দীর্ঘ প্রায় ৮০০ কিলোমিটার থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তের দুই পাশে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার নিয়েছে যে আনুমানিক ছয় লাখ মানুষ নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছে, শনিবার থাই সেনাবাহিনী দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত সাতটি বোমা নিক্ষেপ করেছে এবং এই বোমাবর্ষণ এখনো থামেনি। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য খেমার টাইমস জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী পুরসাত প্রদেশের থমোর দা এলাকায় দুটি হোটেলে বোমা হামলা হয়েছে, যেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রকাশিত ছবিতে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল ও ক্যাসিনো ভবনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। পাশাপাশি আরেকটি অভিযানে থাই নৌবাহিনী উপকূলের একটি জাহাজ থেকে কম্বোডিয়ার কোহ কং প্রদেশের দিকে অন্তত ২০টি কামানের গোলা নিক্ষেপ করেছে, যা হোটেল ও সৈকত এলাকায় আঘাত হানে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের অক্টোবরে মালয়েশিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা গত সোমবার কার্যত ভেঙে পড়ে। এর পর থেকেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Revolt News BD

কমেন্ট বক্স