নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে স্টেডিয়াম পাড়া জামে মসজিদ ও দারুস সুন্নাহ হাফেজিয়া মাদ্রাসার রেলওয়ে লিজকৃত জমিতে নির্মাণ কাজে হামলা ও বাধাপ্রদান করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। কালীগঞ্জ থানায় এমনটাই লিখিত অভিযোগ করেছে মসজিদ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ২৩ নভেম্বর রবিবার সকালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে বৈধভাবে লিজ নেওয়া জমিতে নির্মাণ কাজ করতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন দূর্বৃত্ত অতর্কিত এসে নির্মাণসামগ্রী ভাংচুর করে এবং মাদ্রাসার পরিচালককে হুমকি-ধামকি দেয়। এসময় তারা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলে। মাদ্রাসার পরিচালক মোঃ ইনতাজ আলী তার অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন যে, মো: শওকত আলী ফেলু, মো: জামাল হোসেন, আলম হোসেন, আব্দুস সালাম, মিরু খাঁ অতর্কিত এসে তাকে গালিগালাজসহ দিতে থাকে এবং মসজিদ-মাদ্রা্সার নির্মাণকাজ বন্ধ করতে হুকুম প্রদান করে। অন্যথায় খুন-জখম এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের বক্তব্যে জানা যায়, বিবাদীরা সবাই ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপের্ নেতাকর্মী। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং নানা ধরনের অপকর্মে জড়িত। ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন ফেলু প্রতিদিন সন্ধ্যার পর শাপলা পরিবহন থেকে নিয়মিত ১ হাজার টাকা চাঁদা তোলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিন চাঁদা দিতে দেরি হলে বাস স্ট্যান্ডে গাড়ি থামাতে বাধা দেওয়া হয়।
অবৈধ দখলচেষ্টার তালিকায় আরও একটি পরিচিত নাম মিরু খাঁ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একসময় সন্ত্রাসী রাসেল বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং পরে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে বিএনপির আরেকটি গ্রুপে যোগ দেন। মিরু খাঁর বিরুদ্ধে এমপি আনারুল আজিম আনোয়ারের কাছ থেকে শেখ হাসিনা তহবিল থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসী রাসেলের পেটুয়া বাহিনীর সকল সদস্যই বর্তমানে মিরু খাঁর ছত্রছায়ায় এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানায়।
এ চক্রের আরেক সদস্য আব্দুস সালাম ওরফে টুকাই সালাম, যিনি সন্ত্রাসী রাসেলের গেঞ্জি বাহিনীর সক্রিয় সদস্য। এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও সুদে কারবারীরা এই টুকাই সালামের ছত্রছায়ায় তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সেও স্থানীয় বিএনপির আরেক প্রভাবশালী গ্রুপের সদস্য বলে জানা যায়। টুকাই সালামের স্ত্রীও বিএনপির মহিলা দলের কর্মী, যাকে মাদকসহ একাধিকবার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তার নামে এখনো মাদক মামলাও চলমান।
স্থানীয়দেরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এরা সকলেই কালীগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপের সদস্য হলেও জমি দখল, চাঁদাবাজী ইত্যাদি কর্মকান্ড একত্রে সংঘটিত করে থাকে। ফলে সকলেই বলছে, কালীগঞ্জের বিএনপির আর কোথাও না হোক চাঁদাবাজী, জমি দখল সংক্রান্ত কাজে একতাবদ্ধ।
অভিযোগের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Revolt News BD