ঢাকা | বঙ্গাব্দ

তদন্তের মুখোমুখি না হয়ে সাংবাদিক আক্রমণ—ডিএনসি ইন্সপেক্টর কানিজ ফাতেমা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 16, 2025 ইং
ডিএনসি ইন্সপেক্টর কানিজ ফাতেমা ছবির ক্যাপশন: ডিএনসি ইন্সপেক্টর কানিজ ফাতেমা
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ময়মনসিংহের গৌরীপুরফুলপুরনান্দাইল এলাকায় চলমান মাসোয়ারা বাণিজ্য, ঘুষ, হয়রানি, বাড়িতে ঢুকে টাকা লুট ও সাজানো মামলার যে ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ্যে এসেছেতার পরদিনই অভিযুক্ত ইন্সপেক্টর কানিজ ফাতেমা বেগম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট Kaniz Daizy থেকে প্রতিবেদকের ছবি ব্যবহার করে মানহানিকর ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালিয়েছেন। এমন পোস্ট প্রকাশের পর সচেতন মহলের একটাই মন্তব্য—“যাদের ঘাড়ে অপরাধের বোঝা থাকে, সত্য প্রকাশ হলেই তারাই সবচেয়ে বেশি চিৎকার করে!” অভিযুক্তের পাল্টা অপপ্রচারসত্য আড়াল না কি আতঙ্কের বহিঃপ্রকাশ? প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে ইন্সপেক্টর কানিজ ফাতেমা প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে “ভুয়া সাংবাদিক, “চাঁদাবাজ, এমনকি “জনতার হাতে তুলে দেওয়ার মতো উত্তেজনাকর ও অশালীন ভাষায় পোস্ট দেন। প্রশ্ন উঠছেকেন তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার বদলে সাংবাদিককে টার্গেট করা হলো? সত্য ফাঁস হওয়ায় কি ভয় পাচ্ছে চক্রটি? আইনজীবীরা বলছেন

কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ পেলে তার দায়িত্ব হলো প্রশাসনিক তদন্ত চাওয়া,সাংবাদিককে অপমান করা নয়। অনলাইনে ব্যক্তিগত আক্রমণ একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং সেবার শপথ ভঙ্গের শামিল। যে অভিযোগগুলো প্রকাশিত হওয়ার পরই ‘ঝড় বয়ে যায়গৌরীপুরে দেশী মদের দোকান থেকে মাসোয়ারা আদায়,শ্যামগঞ্জে অবৈধ ছোলাই মদের কারখানায় নিয়মিত টাকা সংগ্রহ,ফুলপুরে নিরীহ বৃদ্ধ লাল সাধুর ঘর লুট করে সাজানো মামলার ফাঁদ,নান্দাইলে জুলেখা বেগমের ঘরে তল্লাশির নামে টাকাস্বর্ণ লুট!

হালুয়াঘাট,গৌরীপুর,ফুলপুর ও তারাকান্দাও দেশী মদের দোকানে একই মাসোয়ারা নেটওয়ার্ক! এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ইন্সপেক্টর কানিজ ফাতেমা ও তার সহযোগী সিপাহি সুহেল ও কায়কোবাদ পাভেল! জনগণের জ্বালাময়ী প্রশ্ন—“তাহলে কারা সত্যি চাঁদাবাজ?” প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাধারণ মানুষের ভাষ্য—“মাদক দমনকারীরাই যদি মদের দোকান থেকে মাসোয়ারা নেয়,তবে সাংবাদিককে দোষ দিয়ে কী লাভ?” “চোরেরা ধরা পড়লে প্রথমেই চিৎকার করেআমি নির্দোষ!” জনপ্রতিনিধি,শিক্ষক, ব্যবসায়ীসবাই এক কথা বলছেন—“যে টিমের বিরুদ্ধে কয়েক উপজেলায় লুটপাট ও সাজানো মামলার অভিযোগ,তারা সাংবাদিককে ‘ভুয়া বললে কি সত্য বদলে যাবে?” প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্টফেসবুকে সরকারি পরিচয়ের অপব্যবহার! ইন্সপেক্টর কানিজ ফাতেমা নিজের সরকারি পদমর্যাদা ও ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে জনসমক্ষে একজন সাংবাদিককে টার্গেট করেছেনব্যক্তিগত আক্রমণ,মানহানিকর বক্তব্য,উসকানিমূলক ভাষা,জনতার হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান (যা আইনবিরোধী),আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেনএটি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, “পাবলিক সার্ভেন্ট কন্ডাক্ট রুলস এবং “ফৌজদারি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রতিবাদসত্যের পক্ষে সাংবাদিকতা কখনোই অপরাধ নয়। মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে যদিঘুষ,মাসোয়ারা,সাজানো মামলা,দরিদ্র মানুষের ঘরে তল্লাশির নামে লুটপাট

হতে থাকেতবে সেই সত্য প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব। জনমনে তাই প্রশ্ন—“সাংবাদিক চাঁদা চেয়েছেএর প্রমাণ কোথায়?” “প্রতিবেদনে প্রকাশিত অভিযোগ মিথ্যা হলে তথ্য দিয়ে খণ্ডন করা হলো না কেন?” “তদন্তের মুখোমুখি না হয়ে সাংবাদিককে আক্রমণ কেন?” প্রশাসনের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা তদন্ত শুরু হোক এখনইসচেতন নাগরিকদের দাবিঃ ১.ইন্সপেক্টর কানিজ ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত। ২.মাঠ পর্যায়ে মাসোয়ারা বাণিজ্যের পূর্ণ অডিট। ৩.ভুক্তভোগীদের বিবৃতি গ্রহণ। ৪.অনলাইনে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা। —সত্যকে থামানো যায় না; সত্য প্রকাশের পর অভিযুক্তের এমন হঠাৎ তেড়ে আসা একটাই প্রমাণ করে—“যেখানে দোষ থাকে,সেখানেই সবচেয়ে বেশি চিৎকার শোনা যায়। আমরা বিশ্বাস করিরাষ্ট্রের সৎ কর্মকর্তা,নীতিবান প্রশাসন এবং জনগণকেউই দোষীদের আড়াল করতে চাইবে না। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলেমাদক ব্যবসায়ীর পাশাপাশিমাদকের নামে মাসোয়ারা বাণিজ্য করা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও সমান ব্যবস্থা নিতে হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Easin Arafat

কমেন্ট বক্স