আর জামান নির্ঝর, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:: খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা খাদ্য গুদামের ওসি এল এসডির অনিয়ম দুর্নীতিতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছ ১২টি গুচ্ছগ্রামের খয়রাতি রেশন কার্ড হোল্ডার ও এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় পানছড়ি উপজেলায় ১২টি গুচ্ছগ্রামের ৪১৩৫টি রেশন কার্ড হোল্ডারের জন্য ৪৪৫.৯৫৯ মে.টা চাল ও ৬০৯.০৮৫ মে.টন গম তিন মাসের জন্য ডিও বরাদ্ধ দেয়া হয়।
জানা গেছে, বাঙালী গুচ্ছগ্রামের খয়রাতি রেশন বিতরনে মাপে কম দেয়া,খাওয়ার অযোগ্য বস্তা পঁচা, নষ্ট আতপ চাল বিতরন করার অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জনপ্রতিনিধি জানান, ৫০ কেজি চাল ও গমের বস্তায় ৫১ কেজি ধরে গুদাম কর্মকর্তা প্রকল্প চেয়ারম্যানকে দেযা হয়।আবার দেখা যায় ঐ বস্তায় তিন থেকে চার কেজি কম থাকে।
গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা বাঙ্গালী রেশন কার্ড হোল্ডাররা জানান, প্রতি বস্তায় চার থেকে পাচ কেজি করে কম হয়ে থাকে। প্রকল্প চেয়ার ম্যানকে জিজ্ঞেস করলে বলে আমাদেরকে গুদাম থেকে যেভাবে বস্তা দেয়া হয় সেভাবেই নিতে হবে। আমাদের কিছু করার নাই।
জিয়া নগর গ্রামের রুহুল আমিন ও খোরশিদ আলম বলেন, চাল গম খাওয়ার অযোগ্য, বিতরন করছে,আমরা নিরুপায় হযে নিচ্ছি কিন্তু বস্তা নেয়ার পর ওজনে চার পাচ কেজি কম পাওয়া যাচ্ছে।
ওমরপুরের সাহাব মিয়া, দমদম গ্রামের নয়ন মিয়া বলেন,প্রকল্প চেয়ারম্যান পাল্লা দিযে মেপে দেয় না। গুদাম থেকে যে বস্তা আনা হয়েছে সেভাবে বিতরন করেন। এই ৫০ কেজির বস্তায় ক্ষেত্র বিশেষ ৪৫ কেজি থেকে ৪৯ কেজি পাওয়া যায়।
লোগাং প্রকল্প চেয়ারম্যান সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা উদয়ন চাকমা জানান, গুদাম থেকে ৫০ কেজি বস্তায় ৫১ কেজি ধরে হিসাব করেই আমাদের দেয়া হয়।ঐভাবেই বিতরন করছি।
জিয়ানগর গুচ্ছ গ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যান ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান,কিছু চাল গুদাম থেকে নেয়ার সময় অসতর্কতাবসত পঁচা পড়েছে যা বিতরন করার সময় কার্ড হোল্ডারের কাছে গিয়ে ধরা পরে।পরবর্তীতে কার্ড হোল্ডার থেকে ফেরত নিয়ে পরিবর্তন করে দেয়া হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে এসব পঁচা গম নিয়ে বছরের পর বছর ব্যবসা করে আসছে একটি সিন্ডিকেট। মূলত রেশন বিতরণের শুরুতে এসব পঁচা চাউল বিতরণ শুরু করা হয়। পঁচা চাউল -গম বিতরণের খবরটি কার্ড হোল্ডারদের কাছে পৌঁছালে তাদের পঁচা চাউল নেওয়ার প্রতি অনিহা সৃষ্টি হয়।
এক পর্যায়ে সে চাউলগুলো তারা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছে কম মূল্যে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন।
পানছড়ি খাদ্য গুদামের ওসি এল এসডি কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ জানান,আমার গুদাম থেকে চাল গম নেয়ার পর বাহিরে মেপে কম পরলে এর দাযভার আমার না।মেপে না দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন উনারা চাল গম মাপা ছাড়া নেয় কেন। আমি বলি গুদাম থেকে মেপে নেন। এমনকি উনারা চাল গম ওজনে সঠিক ভাবে বুজে পেয়ে আমাকে লিখিত কাগজ দিছে। তাহলে এখন কম হওয়ার অভিযোগ করলে তো আমার কিছু করার নাই।
Revolt News BD