তানভীর সৌরভ ,বিশেষ প্রতিনিধি:: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটডোর টিকিট থেকে শুরু করে রোগীর খাবার—প্রতিটি ক্ষেত্রে চলছে অনিয়ম আর দুর্নীতির মহোৎসব। সরকার নির্ধারিত ফি ও বরাদ্দ উপেক্ষা করে বছরে কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ রোগী ও স্বজনরা বলছেন, “আমরা চাই দুর্নীতি-মুক্ত স্বাস্থ্যসেবা”।
মূল প্রতিবেদন:
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। আউটডোর টিকিটের সরকার নির্ধারিত মূল্য ৩ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ৫ টাকা। প্রতি মাসে আউটডোরে রোগীর সংখ্যা ৮ হাজারের বেশি। বছরে কেবল টিকিট থেকেই উঠছে এক লাখ বিরানব্বই হাজার টাকার অতিরিক্ত অর্থ। ভর্তি রোগীদের কাছ থেকেও প্রতি রোগী ৮ টাকা ফি’র পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা।
শুধু আউটডোর ও ভর্তি ফি থেকেই প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির বিরুদ্ধে।
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও অবহেলা
সরেজমিনে দেখা যায়, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা ওয়ার্ডবয়ের কাজ না করে ডাক্তারদের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ব্যস্ত। তাদের উদাসীনতায় হাসপাতালজুড়ে জমেছে ময়লা-আবর্জনা; অপরিষ্কার, নোংরা পরিবেশে দুর্ভোগ বাড়ছে রোগীদের।
খাদ্য সরবরাহে চরম অনিয়ম
রোগীদের প্রতিদিনের খাবারের বরাদ্দেও অনিয়মের চিত্র ভয়াবহ। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বেলায় ৭৫ গ্রাম করে কক মুরগি বা খাসির মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে বাজারের নিম্নমানের ব্রয়লার মুরগি।
৩৫০ টাকা দরে কক মুরগির বরাদ্দ থাকলেও রোগীদের খাওয়ানো হচ্ছে ১৬০ টাকা দামের ব্রয়লার মুরগি। আবার ৮০ টাকা দরে মিনিকেট চাল বরাদ্দ থাকলেও দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের মোটা চাল।
একই ঠিকাদারের ‘দৌরাত্ম্য’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরার সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খাবার সরবরাহের ঠিকাদার একই ব্যক্তি—নজরুল ইসলাম। দুই দশকের বেশি সময় ধরে জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন জিম্মি হয়ে আছে তার কাছে।
সাধারণ মানুষের ক্ষোভ
দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। তাদের একটাই দাবি—“দুর্নীতি-মুক্ত, জনবান্ধব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স”।
Revolt News BD