ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রাম জেলার সর্বত্র গাছে সাইনবোর্ড, পেরেকের আঘাতে ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে গাছ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 9, 2025 ইং
প্রতিনিধির পাঠানো ছবি ছবির ক্যাপশন: প্রতিনিধির পাঠানো ছবি
ad728

আব্দুল্লাহ আল আমিন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:: কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছের গায়ে লোহার পেরেক মেরে সাইনবোর্ড, পোস্টার ও ব্যানার লাগানো এখন যেন নিত্যদিনের দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। ডাক্তার, ক্লিনিক, ওষুধ ব্যবসায়ী, প্রাইভেট কোচিং সেন্টার, দোকানদারসহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান এভাবে গাছকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।

স্থানীয়দের মতে, প্রচারণার সহজ উপায় হিসেবে গাছকে ব্যবহার করা হলেও এতে গাছের মারাত্মক ক্ষতি হয়। পেরেক ঢুকিয়ে বোর্ড লাগালে গাছের গায়ে ক্ষত তৈরি হয়, যা দিয়ে জীবাণু ও পোকামাকড় ঢুকে রোগ সৃষ্টি করে। অনেক সময় ক্ষত সারতে না পেরে গাছ ধীরে ধীরে মরে যায়।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বাসিন্দা আলাউদ্দিন মিঞা বলেন, গাছ আমাদের ছায়া দেয়, অক্সিজেন দেয়। অথচ আমরা নিজের স্বার্থে সেই গাছকেই কষ্ট দিচ্ছি। রাজারহাটের এক শিক্ষার্থী ইহসানুল হক বলেন, গাছে পেরেক মারা মানে গাছকে আঘাত করা। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(গ) ধারা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো কার্যকলাপ দণ্ডনীয় অপরাধ। গাছে পেরেক মেরে সাইনবোর্ড লাগানো পরিবেশের ক্ষতি করে বলে এটি আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য। দোষী প্রমাণিত হলে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

পরিবেশ সচেতনদের মতে, বিজ্ঞাপন বা সাইনবোর্ড লাগানোর জন্য বাজার ও জনবহুল এলাকায় আলাদা কাঠ বা লোহার ফ্রেম বসানো যেতে পারে, যা স্থানীয় প্রশাসন বা বাজার কমিটি পরিচালনা করবে। এতে গাছের কোনো ক্ষতি হবে না এবং সবাই বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ পাবে।

পরিবেশপ্রেমীরা কুড়িগ্রাম জেলার সর্বত্র গাছের গায়ে থাকা সব সাইনবোর্ড দ্রুত অপসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, গাছের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা না বাড়ালে আগামী দিনে সবুজ হারিয়ে যাবে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Revolt News BD

কমেন্ট বক্স