যুক্তরাষ্ট্র গতকাল বৃহস্পতিবার পাঁচ ইরানি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তারা ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনের পরিকল্পনায় নেপথ্যে কাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে নজর রাখা হচ্ছে যে, ইরানি নেতারা আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোতে অর্থ পাচার করছেন কি না। মার্কিন অর্থ দপ্তর জানিয়েছে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমান্ডারসহ মোট পাঁচ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যাদের বিক্ষোভ দমনের ‘মূল রূপকার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ফারদিস কারাগারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যেখানে নারীরা ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অপমানজনক আচরণের’ শিকার হয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, সরকার বিক্ষোভের পেছনের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে এবং দুর্নীতি ও বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত বিনিময় হারের সঙ্গে জড়িত সমস্যা মোকাবিলার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানিদের স্বাধীনতা ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ী সকলকে শাস্তি দিতে সব ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আরও ১৮ জনের ওপর পৃথক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ‘ছায়া ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্কে কাজ করছিলেন এবং বিদেশি বাজারে ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রির অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে চলা বিক্ষোভ দমনে দেশটির শাসকগোষ্ঠী কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এ সব পরিস্থিতিতে ইরানিদের পাশে দাঁড়ানো এবং সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
Revolt News BD