দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার এক বছরের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী তুলনামূলক স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থাকে কার্যত ভেঙে নতুন এক অনিশ্চিত বাস্তবতার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি আগ্রাসী ও শক্তিনির্ভর পররাষ্ট্রনীতিতে হাঁটছেন, যার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ চলতি বছরের শুরুতে তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান, যেখানে শতাধিক মানুষ নিহত হয় এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। এ ঘটনার পর থেকে শত্রু–মিত্র নির্বিশেষে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে চলেছেন ট্রাম্প; ন্যাটোভুক্ত ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি, ইরানে সম্ভাব্য হামলার হুঁশিয়ারি এবং মেক্সিকো ও কলম্বিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত তারই অংশ, যদিও কূটনৈতিক যোগাযোগের পর কিছু ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থানে সাময়িক নমনীয়তা দেখা গেছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে তিনি বহুপক্ষীয় কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সৌজন্যকে গুরুত্ব না দিয়ে একতরফা সিদ্ধান্তের পথে এগোচ্ছেন, যার ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ বহু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, এসব সংস্থা বিশ্বায়নবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। দেশের বাইরের মতো ভেতরেও তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে; অভিবাসনবিরোধী অভিযানে প্রাণহানির ঘটনায়ও মানবিক সহানুভূতির বদলে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মৌলিক পার্থক্য হলো, তিনি আদর্শ, গণতন্ত্র বা নৈতিকতার মোড়ক না পরে সরাসরি শক্তি ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, যেমন ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেয়ে তেলের নিয়ন্ত্রণই তাঁর কাছে মুখ্য। ইউরোপীয় নেতারা এ নীতিকে নব্য উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন এবং বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, ট্রাম্পের হাত ধরে যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং পুরোনো বিশ্বব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে।
Revolt News BD