ভোটের নিরাপত্তায় ১ লাখ সেনা, চার দিন নিবিড় টহল
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ :
Jan 14, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ভোটের আগে টানা চার দিন সারা দেশে নিবিড় টহলে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যা ভোটের পর আরও দুই দিন অব্যাহত থাকবে। ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সভায় নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়, যেখানে জানানো হয় যে এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে এক লাখ সদস্য থাকবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর, পুলিশ থাকবে প্রায় দেড় লাখ এবং সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করবেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় পৌনে ছয় লাখ সদস্য। এ ছাড়া নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরাও মাঠে থাকবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮ হাজার ৭৮০টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার ৫৪৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ২৫ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে এবং সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নজরদারি জোরদারে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনী ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করবে। পাশাপাশি ডিএমপি, সিএমপি, র্যাব ও বিজিবির ডগ স্কোয়াড মাঠে থাকবে। দুর্গম এলাকায় ব্যালট ও নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহনে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন বানচালের চেষ্টা বা সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় বিটিআরসি, এনটিএমসি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিপুলসংখ্যক বাহিনীর উপস্থিতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অনিয়ম রোধে সহায়ক হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Revolt News BD
কমেন্ট বক্স