ইরানের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। বিশ্বের অন্যতম তেল রপ্তানিকারক এই দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাজারে সরবরাহ ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনাকেও ছাপিয়ে গেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.০৬ ডলার বা ১.৭ শতাংশ বেড়ে ৬৪.৯৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা মধ্য নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দামও ব্যারেলপ্রতি ১.০২ ডলার বা ১.৭ শতাংশ বেড়ে ৬০.৫২ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ওপেকের প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় সরকারের অস্থিরতা ও বিক্ষোভ সরবরাহ ঝুঁকি তৈরি করছে। ব্রিটিশ ব্যাংক বার্কলেস জানিয়েছে, এই অস্থিরতা প্রতি ব্যারেল তেলের দামে ৩০৪ ডলারের ‘জিওপলিটিক্যাল রিস্ক প্রিমিয়াম’ যুক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর জন্য ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, যা বাজারে আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে। তেলের বড় অংশ চীনে রপ্তানি করা হয়, ফলে এই হুমকি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও রাজনৈতিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে এটি সরবরাহ ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি বিশ্ব তেলবাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
Revolt News BD