স্প্যানিশ সুপারকোপার ফাইনালে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার রাত ১টায় সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি, যেখানে মৌসুমের প্রথম ঘরোয়া ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামবে দুই জায়ান্ট। চলতি মৌসুমে এটি দুই দলের দ্বিতীয় ‘এল ক্লাসিকো’।
সেমিফাইনালে বার্সেলোনা অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদকে অপেক্ষাকৃত কঠিন পথে ২-১ ব্যবধানে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে জয় পেতে হয়েছে। টানা চতুর্থবারের মতো সুপারকোপা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বার্সা-রিয়াল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ট্রফিটি শুধু একটি শিরোপা নয়, বরং মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণের ইঙ্গিত হিসেবেও কাজ করেছে। শেষ চার সুপারকোপা জয়ী দলই পরবর্তীতে লা লিগা শিরোপা জিতেছে।
বর্তমান ফর্মের দিক থেকে বার্সেলোনা এগিয়ে। হান্সি ফ্লিকের অধীনে তারা সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচে জয় পেয়েছে এবং লা লিগার শীর্ষে চার পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে আছে। রাফিনহা, পেদ্রি ও গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়ার প্রত্যাবর্তন দলকে নতুন প্রাণ দিয়েছে। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণে গতি এবং রক্ষণে দৃঢ়তা মিলিয়ে বার্সা ফাইনালে সবচেয়ে পরিপূর্ণ দল হিসেবে নামছে।
রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জাবি আলোনসোর জন্য ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। ডিসেম্বরে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে হারের পর তার চাকরি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সাম্প্রতিক কিছু জয় পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে, তবে দলের পারফরম্যান্স এখনও আশ্বাস যোগাচ্ছে না। গত মৌসুমের সুপারকোপা ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে ৫-২ ব্যবধানে হারের পর কার্লো আনচেলত্তি পদত্যাগ করেছিলেন; একই ধরনের বড় হারে আলোনসোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
রিয়ালের আক্রমণে বড় শক্তি যোগ করেছেন কিলিয়ান এমবাপে, যিনি চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন। চলতি মৌসুমে রিয়ালের হয়ে ২৯ গোল করা এই ফরাসি তারকা ক্লাসিকোতে পাঁচ ম্যাচে ছয় গোল করেছেন। তবে বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিকের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ একাদশ নির্বাচন। রাফিনহা, ইয়ামাল, লেওয়ানডস্কি, ফেরান তোরেস, দানি ওলমো ও মার্কাস রাশফোর্ড— এত আক্রমণভাগের অপশন বেঞ্চ থেকেও ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে।
রিয়ালের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা রক্ষণভাগে। রুডিগার ও মিলিতাও চোটে বাইরে থাকায় প্রয়োজনে মিডফিল্ডারদের দিয়ে ডিফেন্স সাজাতে হচ্ছে আলোনসোকে। ফলে বার্সার গতিময় আক্রমণের সামনে টিকে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ফর্ম ও স্কোয়াডের গভীরতায় বার্সেলোনা কিছুটা এগিয়ে রয়েছে এবং গোলবন্যার ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
Revolt News BD