ঢাকা | বঙ্গাব্দ

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ? ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব নির্বাচন বিশ্লেষণ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 10, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728
 

মামুনুর রশীদ মামুন | ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবকে একটি প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনে রূপ দেওয়ার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন,মানববন্ধন,শান্তিপূর্ণ প্রতীকী কর্মসূচি ও একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের পরও শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হলো বহুল আলোচিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব নির্বাচন। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির উত্থাপিত দাবিগুলোর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই? নাকি আইনি অধিকার থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে? আন্দোলনের পটভূমি ও দাবির যৌক্তিকতাঃ গত ৭ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্ব প্রত্যাহার ও প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া প্রেসক্লাব নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন কর্মরত সাংবাদিকরা। কর্মসূচিতে বক্তারা স্পষ্টভাবে বলেন—প্রেসক্লাবের সঠিক ও নির্ভুল সদস্য তালিকা নেই! কর্মরত সাংবাদিক ছাড়াও আমলা,পেশাজীবী ও অ-সাংবাদিকদের সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে
সময়োপযোগী ও গণতান্ত্রিক গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও অনুমোদন হয়নি! এসব সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও বৈধ হতে পারে না।
আইন ও সংগঠন পরিচালনার সাধারণ নীতিমালা অনুযায়ী,একটি স্বেচ্ছাসেবী বা পেশাজীবী সংগঠনের ক্ষেত্রে—ভোটার তালিকা,গঠনতন্ত্র ও সদস্যপদের বৈধতা নিশ্চিত না করে নির্বাচন আয়োজন আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য।
প্রতীকী প্রতিবাদ: শেষ আশ্রয়-মানববন্ধনের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না আসায় ৮ জানুয়ারি রাতে সাংবাদিকরা শান্তিপূর্ণ প্রতীকী কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রেসক্লাবের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এটি কোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যম—যা সংবিধান স্বীকৃত মত প্রকাশের অধিকারভুক্ত। কিন্তু তারপরও কেন হলো নির্বাচন? সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্নটি এখানেই—যখন ভোটার তালিকা,গঠনতন্ত্র ও সদস্যপদের বৈধতা নিয়েই গুরুতর আপত্তি ছিল,তখন জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্বাচন আয়োজন করা হলো কোন আইনি ও নৈতিক ভিত্তিতে? প্রশাসন যদি মনে করে থাকে যে সংস্কার কমিটির দাবির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই,তাহলে—লিখিতভাবে তা ব্যাখ্যা করা হলো না কেন? কেন কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত বা মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া নেওয়া হলো না? কেন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হলো না? এতে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয়, বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে ‘এড়িয়ে যাওয়া’ হয়েছে, ‘সমাধান করা’ হয়নি। সংস্কার কমিটির আইনগত অধিকার আছে কি? আইন বিশ্লেষণে দেখা যায়—
প্রেসক্লাব একটি পেশাজীবী সংগঠন-সেক্ষেত্রে এর সদস্যপদ ও ভোটাধিকার কেবল কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা যুক্তিসঙ্গত ও নৈতিক। ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা ও গঠনতন্ত্রে নির্বাচন হলে-তা আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য।
প্রশাসনিক কর্তৃত্ব দিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রকে উপেক্ষা করা হলে,তা সংবিধানের অনুচ্ছেদে বর্ণিত সংগঠনের স্বাধীনতার পরিপন্থী হতে পারে। অতএব,সংস্কার কমিটির দাবি আইনগতভাবে পুরোপুরি অগ্রাহ্যযোগ্য নয়—বরং যথেষ্ট ওজনদার।
তাহলে এখন আইনত করণীয় কী? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,সংস্কার কমিটির সামনে এখন কয়েকটি পথ খোলা রয়েছে—আদালতে মামলা
ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা ও গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে নির্বাচন বাতিলের আবেদন। হাইকোর্টে রিট আবেদন–প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও সংগঠনের গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে
তথ্য মন্ত্রণালয় ও প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে স্মারকলিপি,জাতীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক নজরদারির দাবি,জাতীয় সাংবাদিক সংগঠন ও প্রেস কাউন্সিলের হস্তক্ষেপ চাওয়া–কেননা এটি কোনো ব্যক্তি বা কমিটির লড়াই নয়। এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়। এটি—পেশাদার সাংবাদিকতার মর্যাদা, সংগঠনের স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার প্রশ্ন।
যদি প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হয়,তবে তা কেবল ময়মনসিংহ নয়—সারাদেশের সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এখনো সময় আছে। সরকার ও প্রশাসনের হাইকমান্ড চাইলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য,স্বচ্ছ ও ঐক্যবদ্ধ সমাধানে পৌঁছাতে পারে। অন্যথায়,এই প্রশ্ন গুলো থেকেই যাবে—আর ইতিহাস তার নিজের মতো করেই জবাব লিখে নেবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Revolt News BD

কমেন্ট বক্স