বিশেষ প্রতিবেদনঃ ক্ষমতার অপব্যবহার,দুর্নীতি,চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অন্ধকার দিক উন্মোচন করাই সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন সাংবাদিকরাই। মব সৃষ্টিকারী চক্র, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছেন মাঠপর্যায়ের সংবাদকর্মীরা।
সারাদেশের মতো ময়মনসিংহেও এই উদ্বেগজনক বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ময়মনসিংহের তরুণ সাংবাদিক মামুনুর রশীদ মামুন সম্প্রতি সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের সংঘবদ্ধ মব হামলার শিকার হয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং অপরাধ-
অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশই যে এই হামলার মূল কারণ—এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। শুধু তাই নয়,সিনিয়র সাংবাদিক ফুয়াদ তাঁর স্ত্রীসহ পৃথক এক ঘটনায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এসব ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মব সন্ত্রাস: সাংবাদিক দমনের নতুন কৌশল বিশ্লেষকদের
মতে,সরাসরি অস্ত্রধারী হামলার পাশাপাশি এখন সাংবাদিকদের দমন করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘মব জাস্টিস’ বা সংঘবদ্ধ জনতার নামে সন্ত্রাস। পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে,উত্তেজনা সৃষ্টি করে সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে—যাতে অপরাধীরা আড়ালে থেকে যায়,আর প্রকৃত অপরাধ চাপা পড়ে। ময়মনসিংহে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দেখা গেছে,চাঁদাবাজি ও অপরাধের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পরপরই সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মব তৈরি করা হয়েছে।
এতে প্রশ্ন উঠেছে—এই মব কারা সৃষ্টি করছে,আর তারা কোথা থেকে এত সাহস পাচ্ছে? প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নঃ একাধিক ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন,
হামলার আগে হুমকি দেওয়া হলেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আবার হামলার পর মামলা গ্রহণ,তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যাচ্ছে। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসন কি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে? সাংবাদিক সমাজ মনে করছে,দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এতে শুধু সাংবাদিক নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও চরম হুমকির মুখে পড়ছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে-সংবাদকর্মীরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন,তবে সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে—এটাই স্বাভাবিক। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতা ছাড়া সুশাসন কল্পনা করা যায় না। অথচ বর্তমান বাস্তবতায় মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। দাবি ও করণীয়ঃ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে—
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত,হামলাকারী ও মব সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি,ঝুঁকিপূর্ণ সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ,সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ–এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়,এটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ মানে সত্যকে বন্দি করা। যদি এভাবে সন্ত্রাস ও মবের মাধ্যমে সংবাদকর্মীদের ভয় দেখানো হয়, তাহলে তা শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়—পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্যই অশনিসংকেত। এভাবে তো একটি দেশ চলতে পারে না। সাংবাদিকের কলম রক্ষা করা মানেই গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষা করা—এ সত্য অনুধাবন করেই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
Revolt News BD