ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহের চরপাড়ায় অবৈধ ক্লিনিকের রমরমা বাণিজ্য,জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 4, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728
 
মামুনুর রশীদ মামুন | ময়মনসিংহঃ
স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা সত্ত্বেও ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকায় অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বীরদর্পে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনুমোদন ও লাইসেন্সবিহীন এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীরা পড়ছেন ভুল রিপোর্ট, চিকিৎসা জটিলতা এবং চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। কোথাও কোথাও ভুল রোগ নির্ণয় ও অনুপযুক্ত চিকিৎসার কারণে রোগীর জীবন পর্যন্ত বিপন্ন হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী,প্রয়োজনীয় মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, দক্ষ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত জনবল ছাড়াই পরিচালিত এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগ নির্ণয়ের নামে চলছে অনিয়ম। স্বাস্থ্য বিভাগের নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চরপাড়া এলাকায় অবস্থিত একাধিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে লাইসেন্স না থাকা, শর্তভঙ্গ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন অঙ্কের জরিমানা করা হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন—জরিমানার পরও এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রোগী ভর্তি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এতে করে প্রশ্ন উঠেছে—লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে খোলা থাকে? কার ছত্রচ্ছায়ায় চলছে এই অবৈধ ব্যবসা? তদারকি ও জবাবদিহিতায় কোথায় ঘাটতি? স্বাস্থ্য বিভাগের নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতার পরও অভিযোগের মুখে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিজয় হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার,রেডিসন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার,জীবনের আলো (প্রাঃ) হাসপাতাল, নিউ নাসিরাবাদ (প্রাঃ) ক্লিনিক, সেইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উত্তরা মডেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পল্লী কল্যাণ (প্রাঃ) হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মোহাম্মদিয়া ডায়াগনস্টিক এবং নোভামেড (প্রাঃ) হাসপাতালসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোরই লাইসেন্স নেই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অসম্পূর্ণ কিংবা একেবারেই অনুপস্থিত। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, বহু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল বা অসংগতিপূর্ণ রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। ফলে রোগ নির্ণয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, চিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে কিংবা ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ছে। একাধিক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাননিয়ন্ত্রণহীন যন্ত্রপাতি ও অদক্ষ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে করা পরীক্ষা সরাসরি রোগীর জীবনের জন্য হুমকি। তাদের মতে, নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর তদারকি না থাকায় এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্যের জন্য ‘টাইম বোমা’তে পরিণত হয়েছে। এদিকে প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, স্বাস্থ্য বিভাগের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হওয়া প্রশাসনিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। নিয়মিত মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না হওয়ায় জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ফয়সাল আহমেদ বলেন,“জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—এই ‘পর্যায়ক্রমিক পদক্ষেপ’ কবে বাস্তবে দৃশ্যমান হবে? জনস্বাস্থ্য নিয়ে এমন অবহেলা আর কতদিন চলবে?
সর্বমহল থেকে অবিলম্বে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জোর দাবি উঠেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Revolt News BD

কমেন্ট বক্স