গত ২৩/১২/২৫ ইং কোম্পানীগঞ্জ থানায় কালাইরাগ,বাংকার ও সাদাপাথর এলাকা থেকে বালু লুটপাটের অভিযোগে ২০ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক ১০০/১৫০ জনকে অজ্ঞাত রেখে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই আমিরুল ইসলামের দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওসি শফিকুল ইসলাম খানের স্বাক্ষরে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।মামলা নম্বর-২৪।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে এজহার নামীয় আসামিগন ৫ আগষ্ট /২৪ পরবর্তী সময়ে কালাইরাগ,বাংকার ও সাদাপাথর এলাকা থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার বালু লুটপাট করেছে।
কিন্তু অভিযুক্ত আসামীগনের অনেকের বক্তব্যে পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে।উক্ত মামলার ৪ নং আসামি মশাহিদ আলী অভিযোগ করে বলেন,আমাকে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার কাজল সিং ফোন করে বলেন যে আমি দ্রুত পুলিশসহ তারা যেখানে বসা আছে সেখানে যেন আসি।আমি তার কথায় তাদের কাছে আসলে আমাকে পুলিশের দারোগা ও কাজল মেম্বার জানতে চান এখানে কারা বালু তুলে তাদের নাম বলতে কিন্তু আমি বলি যে আমি জানিনা কারন আমি এসব বালুর কোন ব্যবসা করিনা এবং কে বা কারা করে তাও জানিনা।এতে তাহারা আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ধমকিয়ে বলে তোমাকে বলতে হবে কারা এসব করে। আমি আবারও বলি যে রাতের আধাঁরে কে বা কারা এসব করে আমি জানিনা আমি নিরীহ মানুষ এসব ঝামেলায় আমি জড়াতে চাইনা।এক পর্যায়ে দারোগাসাব আমাকে স্বাক্ষী হিসেবে একটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেন এতে আমি অস্বীকৃতি করলে কাজল মেম্বার আমাকে বলেন যে আমিও স্বাক্ষী দিচ্ছি আপনিও দেন।তারপর আমি স্বাক্ষর করি।পরের দিন সন্ধ্যায় শুনি আমি মামলার ৪ নং আসামি। অথচ আমি যখন তাদের সাথে কথা বলি তখন যাদের নাম কাগজে ছিলো মামলায় দেখা যায় তাদের অনেকের নাম নাই। এতে আমি সহ ভুক্তভোগী অনেকের ধারনা পুলিশ টাকা খেয়ে মূল আসামীদের নাম বাদ দিয়ে আমার নামসহ অন্যান্য অনেক নিরীহ মানুষের নাম মালায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।আমি এর প্রতিকার চাই, বলেন মশাহিদ আলী।স্থানীয় উত্তর কলাবাড়ী গ্রামের মাসুক মিয়া উক্ত মামলার ১৪ নং আসামি, তিনি বলেন আমার বাড়ী ধলাই ব্রিজের সাথে, আমি ধলাই ব্রিজ রক্ষা আন্দোলনের একজন কর্মী, আমি বালু ব্যবসার সাথে জড়িত নই।আমার নাম কিভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত হলো আমি বুঝতে পারছিনা, আমিতো দয়ারবাজার বা কালাইরাগ গত ৬ মাসেও যাইনি।নিশ্চয়ই কেউ পূর্ব শত্রুতার জেরে টাকার বিনিময়ে পুলিশের কাছে আমার নাম লিখিয়েছে। বালু লুটপাট বা ব্যবসার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন পুলিশ,ট্রাক্টর, পেলুডার ধরলো দেখলাম কতক্ষণ পরে আবার সেগুলো ছেড়েও দিলো। পরের দিন শুনি যাদের গাড়ী নেই ব্যবসা নেই তাদের অনেকেই মামলার আসামী। পুলিশের এসব নাটক বন্ধ করতে হবে।
এবিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার কাজল সিং এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন মামলায় যাদের নাম এসেছে আমি তাদের চিনিনা এবং আমি এসব ঝামেলায় জড়াতে চাইনা। কিন্তু মশাহিদ আলীর বক্তব্যে বুঝাগেলো তিনিই নাটেরগুরু।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব শফিকুল ইসলাম খান বলেন তাৎক্ষণিক মামলা হয়েছে, অধিকতর তদন্ত করে নিরপরাধ কারো নাম থাকলে তাকে চার্জশিটের সময় বাদ দেওয়া হবে এবং নিরীহ কাউকে হয়রানি করা হবেনা।
Revolt News BD