ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জ্বালানি দক্ষতায় ডলার সাশ্রয় করছে বাংলাদেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 18, 2025 ইং
Energy efficiency ছবির ক্যাপশন: Energy efficiency
ad728
 
 নিজস্ব প্রতিবেদক। 
গত এক দশকে জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে নেওয়া ধারাবাহিক উদ্যোগের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ। এই ধারা বজায় থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশের জ্বালানি দক্ষতার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)। সংস্থাটির এক নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পেরেছে।
 ‘বাংলাদেশ এনার্জি ইফিসিয়েন্সি গোলস উইদিন রিচ’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটি বুধবার অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সাল থেকে জ্বালানি দক্ষতার উন্নতির কারণে বাংলাদেশ শতকোটি ডলার সমপরিমাণ জ্বালানি আমদানির ব্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদনে গত এক দশকে দেশের প্রাথমিক জ্বালানি ব্যবহার ও মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি বিশ্লেষণের মাধ্যমে জ্বালানি দক্ষতার অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। আইইইএফএ দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম এই প্রতিবেদনের লেখক।
 প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪–১৫ অর্থবছর থেকে ২০২৩–২৪ সময়কালে বাংলাদেশের জ্বালানি দক্ষতা বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যেখানে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ শতাংশ। শুধু ২০২৩–২৪ অর্থবছরেই জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে প্রায় ৭০ লাখ টন তেলের সমপরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমেছে, যার মাধ্যমে আনুমানিক ৩৩৪ কোটি মার্কিন ডলার আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে।
 আইইইএফএ বলছে, দেশে বার্ষিক গড় জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির হার প্রায় ১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই অর্জিত হতে পারে। দেশের মোট জ্বালানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্যবহার হয় গৃহস্থালি ও শিল্প খাতে। তাই এসব খাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে আরও বেশি জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব। গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে বিদ্যুৎ–সাশ্রয়ী এলইডি বাতির ব্যবহার এবং দক্ষ এয়ারকন্ডিশনার গ্রহণকে প্রতিবেদনে সচেতনতা–নির্ভর জ্বালানি দক্ষতার সফল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
 তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এলইডির মতো প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার সত্ত্বেও শিল্প খাতে মোটর ও মোটরচালিত ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো, ক্যাপটিভ জেনারেটরের উন্নয়ন এবং গ্যাসচালিত বয়লার থেকে বৈদ্যুতিক বয়লারে রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একইভাবে বাণিজ্যিক খাতে, বিশেষ করে যেখানে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বেশি, সেখানে জ্বালানি লেবেলিং ও প্যাসিভ ডিজাইনের গুরুত্ব বাড়াতে হবে। আইইইএফএ মনে করে, জ্বালানি দক্ষতা শুধু ব্যয় সাশ্রয়ের বিষয় নয়; এটি দ্রুত জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থার রূপান্তর ঘটাতে পারে, তবে এর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা, জ্বালানি ভোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Revolt News BD

কমেন্ট বক্স