নিজস্ব প্রতিবেদক।
সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি প্রশ্ন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে—কোনো ইসলামী দল কি হিন্দু বা অন্য ধর্মের ব্যক্তিকে নির্বাচনে প্রার্থী করতে পারে? সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা মত রয়েছে। অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এতে ইসলামী দলের পরিচয় ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তবে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি সরলভাবে দেখা ঠিক নয়।
ইসলামে নেতৃত্বকে সাধারণত দুই ধরনের হিসেবে দেখা হয়। এক ধরনের হলো ধর্মীয় নেতৃত্ব, যেমন ইমামতি বা শরীয়াহ ব্যাখ্যা। এতে মুসলিম হওয়া বাধ্যতামূলক। অন্য ধরনের হলো প্রশাসনিক বা দুনিয়াবি নেতৃত্ব, যেমন এলাকার উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা, নাগরিক সেবা। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতা, সততা ও ন্যায়প্রিয়তা প্রধান শর্ত, ধর্মীয় পরিচয় নয়।
কুরআনে বলা হয়েছে, “আমানত তাদেরই দাও যারা যোগ্য।” নবী মুহাম্মদ (সা.)–এর জীবনেও দেখা যায়, হিজরতের সময় তিনি একজন অমুসলিমকে পথপ্রদর্শক হিসেবে দায়িত্ব দেন। ইসলামী আইনবিদরা বলছেন, যদি অমুসলিম ব্যক্তি জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করে, ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে এবং ন্যায়পরায়ণ হয়, তবে তাকে প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া বৈধ।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, একজন অমুসলিম প্রার্থী মনোনয়ন দিলে কোনো দল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলামি পরিচয় হারায় না। মূল বিচার-বিন্দু হলো দল এবং প্রার্থী জনকল্যাণে কতটা কার্যকর এবং ন্যায়পরায়ণ। ধর্মীয় নেতৃত্ব অমুসলিমকে না দেওয়া শর্তে, প্রশাসনিক কাজে অংশগ্রহণকে ইসলামবিরোধী মনে করা যায় না।
সংক্ষেপে, ইসলামী তত্ত্ব অনুযায়ী প্রশাসনিক নেতৃত্বে যোগ্য অমুসলিমের অংশগ্রহণ অনুমোদনযোগ্য। ধর্মীয় নেতারা বলছেন, জনকল্যাণ, ন্যায়বিচার এবং সততা প্রধান ভিত্তি; প্রার্থীর ধর্ম নয়। এ কারণে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অমুসলিম প্রার্থীর মনোনয়ন ইসলামী নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।
Revolt News BD