নিজস্ব প্রতিবেদক,
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কমিশনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠক শেষে ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ভুয়া তথ্য ও গুজব ঠেকাতে গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর উপর নজরদারি জোরদার করা হবে এবং এজন্য একটি বিশেষ সাইবার নিরাপত্তা সেল গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সচিব বলেন, নির্বাচনের সময় নিরাপত্তার সামগ্রিক দায়িত্ব যেমন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই পালন করবে, তেমনি মাঠের প্রতিটি ঘটনার সমন্বয় করবে নির্বাচন কমিশন। এজন্য একটি আলাদা পর্যবেক্ষণ ইউনিট গঠন করা হবে, যেখানে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি সমন্বিতভাবে কাজ করবে। কতজন নিয়ে সেলটি গঠিত হবে—তা এখনো নির্ধারণ না হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থার চাহিদা অনুযায়ী কাঠামো ঠিক করা হবে।
তিনি জানান, ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠেকাতে সাইবার নিরাপত্তা সেলে ইউএনডিপির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি তথ্য মন্ত্রণালয়, সিআইডি এবং তথ্য যাচাই সক্ষম বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
যোগাযোগ কৌশলের বিষয়ে সচিব বলেন, মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত তথ্য প্রবাহ দুইদিকে সচল থাকবে। শুধু ওপরের নির্দেশ নিচে যাবে না; বরং স্থানীয় পর্যায় থেকে তাৎক্ষণিক তথ্য এসে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, তিন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে—
স্থায়ী মোতায়েন, মোবাইল ইউনিট, এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ফোর্স।
স্থায়ী নিরাপত্তা কর্মীরা কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন। মোবাইল টিম ঘুরে ঘুরে নজরদারি করবে। আর কেন্দ্রীয় রিজার্ভ বাহিনী দ্রুত যেকোনো স্থানে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুসারে স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্টও থাকবে।
সচিব আরও জানান, সন্ত্রাসী তৎপরতা বা অস্ত্র বিস্তার ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বডি–ওর্ন ক্যামেরা যথাযথভাবে ব্যবহার, পার্বত্য অঞ্চলে পর্যাপ্ত ইন্টারনেট নিশ্চিত করা এবং বিশেষ পরিস্থিতির জন্য বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতেও জোর দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান কমিটি, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল রয়েছে, প্রয়োজনে তারা তা ব্যবহার করবেন। বিদেশ থেকে আসা পোস্টাল ভোটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর থেকে ডাক বাছাই কেন্দ্র—প্রতিটি ধাপেই বাড়তি নজরদারি রাখা হবে।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য যেন কোনো ধরনের আপ্যায়ন বা সুবিধা গ্রহণ না করেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনের সংকট কমাতে প্রয়োজন হলে সরকারি যানবাহন ব্যবহার বা ভাড়া করার ব্যবস্থাও করা হবে।
শেষে ইসি সচিব জানান, কমিশনের নিজস্ব বাহিনী না থাকায় নির্বাচনের প্রথম দিন থেকেই সব বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগেই সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। বাহিনীগুলো জানিয়েছে, তারা শুরু থেকেই মাঠে সক্রিয় থাকবে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
Revolt News BD