আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ জানিয়েছে, ইউরোপ জুড়ে হামাস নীরবে একটি গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দেশ পেলেই হামলা চালাতে সক্ষম। সংস্থাটির দাবি—ইউরোপীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেই এই নেটওয়ার্কের অস্ত্রভান্ডারের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং একাধিক হামলার পরিকল্পনা আগেই ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
মোসাদ বলছে, জার্মানি, অস্ট্রিয়া সহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশেষ করে গত সেপ্টেম্বর ভিয়েনায় পাওয়া একটি অস্ত্রগুদামকে তারা বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করছে। সেই গুদাম থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা পৌঁছে যান হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাঈমের ছেলে মোহাম্মদ নাঈমের দিকে। বাসেম নাঈমকে হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচনা করা হয়।
মোসাদের অভিযোগ—হামাসের বিদেশি নেতৃত্ব, বিশেষ করে কাতারে অবস্থানরত নেতারা এসব কর্মকাণ্ডকে আড়াল থেকে সমর্থন দিয়ে থাকেন। প্রকাশ্যে তারা সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও বাস্তবে এসব নেটওয়ার্ক সচল রাখতে সহায়তা করেন বলেই দাবি ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের।
তদন্তের নজর এখন তুরস্কভিত্তিক হামাস-সংযুক্ত চক্রগুলোর দিকেও। জার্মান কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বুরহান আল-খাতিব নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে, যিনি তুরস্কে হামাসঘনিষ্ঠ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
একই সঙ্গে ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো শুধু অভিযান নয়, সন্দেহভাজন অর্থায়ন ও মতাদর্শ প্রচারের পথগুলো নিয়েও কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। জার্মানি ইতিমধ্যে বেশ কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও দাতব্য সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করেছে, যেগুলো হামাসের অর্থসংগ্রহ বা প্রচারণা চালানোর কেন্দ্র হতে পারে।
মোসাদ দাবি করছে, ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর হামাস বিদেশে তাদের নেটওয়ার্ক দ্রুত বিস্তারের চেষ্টা করছে। ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর মতো কৌশল অনুসরণ করে বিভিন্ন দেশে ছোট ছোট সেল তৈরিতে মনোযোগ বাড়িয়েছে তারা। সংস্থাটির বক্তব্য—এ মুহূর্তে তারা বিশ্বজুড়ে ডজনখানেক সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা ব্যর্থ করতে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলি ও ইহুদি নাগরিকদের নিরাপত্তাকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছে।
Revolt News BD