শরিফুল ইসলাম শরীফ,ঢাকা প্রতিনিধি:: গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুনভাবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২৮ জন ডেঙ্গু রোগী।
একই সময়ে দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৭৮ জন।
২৯/১০/১০২৫ইং এর তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরে দেশে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯,৩৫৬ জন (পুরুষ ≈ ৬২%, নারী ≈ ৩৮%)।
বিশেষ করে ঢাকা বিভাগের হাসপাতাল ও সিটি করপোরেশন এলাকায় আক্রান্ত ও ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রবল। এ ছাড়া ও
দেশের বিভিন্ন জেলায় দ্রুত বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। হাসপাতালগুলোতে দিন দিন বাড়ছে রোগীর চাপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে আগের সব বছরের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু বিস্তারের পেছনে রয়েছে পরিবেশগত ও মানবসৃষ্ট একাধিক কারণ।
প্রথমত, জলাবদ্ধতা ও অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ডেঙ্গু মশা এডিসের বর্ধনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। শহরের রাস্তাঘাট, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদে জমে থাকা পানি কিংবা অব্যবহৃত টায়ার, বোতল ও ফুলের টবে জমে থাকা পানি মশার ডিম পাড়ার আদর্শ স্থান তৈরি করে দিচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তন ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ধারা এডিস মশার জীবনচক্রে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া মশার বংশবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করছে।
তৃতীয়ত, জনসচেতনতায় ঘাটতি ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেকেই এখনও জানেন না কোথায় এডিস মশা জন্মায় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু ফগিং বা ওষুধ ছিটানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ— নাগরিক সচেতনতা, নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার, বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, এবং স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সকল নাগরিককে আহ্বান জানিয়েছে, প্রতি তিন দিনে একবার বাড়ির ভিতরে ও বাইরে জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়া, ফুলের টব, টায়ার, ড্রাম ও কন্টেইনার পরিষ্কার রাখা, এবং মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য মশারি ব্যবহার করার।
ডেঙ্গু শুধু একটি মৌসুমি রোগ নয়, এটি এখন একটি জনস্বাস্থ্য সংকট। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে, নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। তাহলেই সম্ভব এই প্রাণঘাতী রোগের বিস্তার রোধ করা।
Revolt News BD