সিলেট প্রতিনিধি:: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি আব্দুল হককে ৯৫ দিনের মাথায় সাময়িকভাবে পদ থেকে স্থগিত করেছে সিলেট জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আনিত গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে “কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না”—এ মর্মে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
জানা যায়, সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ও জেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, গত ১৪ অক্টোবর সালুটিকর বাজারে বিএনপির এক প্রার্থীর জনসভায় জেলা বিএনপির সভাপতি জনাব আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর উপস্থিতিতে হাজারো নেতা-কর্মীর সামনে আব্দুল হক দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান করেন। তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি দলীয় ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে নাগরিক অধিকার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দল যখন প্রার্থী বাছাইয়ের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় রয়েছে, সেই সময় তাঁর উক্তি সারাদেশে দলের নীতি-আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।
বিশেষ করে “তিন প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর অন্য প্রার্থী চাপিয়ে দিলে জুতার মালা উপহার দেওয়া হবে”—এমন উক্তি দলীয় গঠনতন্ত্রের প্রতি চরম অবমাননার শামিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় জেলা বিএনপির সভাপতি উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়া নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সভাপতি ঘটনাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে সাংগঠনিকভাবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে আব্দুল হক জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগ দেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১০ জুলাই নবগঠিত গোয়াইনঘাট উপজেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি পদে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সাময়িকভাবে পদ থেকে স্থগিত করা হলো।
এ ঘটনাটি গোয়াইনঘাট জুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
Revolt News BD