বৃষ্টিপাত আর উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাউনিয়ার নিন্ম অঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাগেছে সোমবার দুপুরের দিকে তিস্তা রেল সেতু পয়েন্টে বিপদ সীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা রেল সেতুর পশ্চিম প্রান্তে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গদাই গ্রামের লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।
পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঢুষমারা,তালুক সাহাবাজ,পূর্ব নিজপাড়ার অংশ ,গোপীডাঙ্গা,আরাজি হরিশ্বর, চর প্রাননাথ,বিশ্বনাথ, হরিচরণ শর্মা,হয়বতখাঁ গ্রামের ৩ শতাধিক পরিবারের বাড়ীঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও আমন ধানের ক্ষেত, সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়াও বেশ কিছু পুকুর ও মাছের খামারের মাছ পানির তোরে ভেসে গেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উজানের ঢলে সোমবার সকাল থেকে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে করে তিস্তা ব্যারেজের ভাটিতে অবস্থিত কাউনিয়া উপজেলার তিস্তার চর এলাকার বেশ কয়েক টি গ্রামে পানি প্রবেশ করে। তার মধ্যে ঢুষমারা, পূর্ব নিজপাড়া, তালুক সাহাবাজের কিছু অংশ, গোপীডাঙ্গা,আরাজি হরিশ্বর, প্রাণনাথ,চরগনাই, বিশ্বনাথ,হরিচরণ শর্মা গ্রামে ৩শ' বাড়ীঘর পানিতে তলিয়ে যায়। এতে করে আমন ধানের ক্ষেত ও সবজি, বীজ বাদাম,মরিচ ক্ষেত পানিতে ডুবে যায়। বিস্তীর্ণ চরের প্রায় ১ হাজার একর জমির আমন ফসল সহ অন্যান্য ফসল পানিতে ডুবে গেছে। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা।
ডালিয়া পয়েন্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাগেছে ভারী বৃষ্টি আর উজান থেকে পানি আসায় ডালিয়া ব্যারেজে ৪৪ টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। এ কারণে তিস্তার পানি ভাটিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ঢুষমারার চর এলাকার চাষী নজরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের গ্রামের দেড়শ' পরিবার ও বেশ কিছু চাষীর আমন ধানের ক্ষেত ও সবজি ,বীজ বাদাম, মরিচ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে । টেপামধুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, তার এলাকায় ৪ টি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি ও ফসলী জমির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে এবং নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিদুল হক সোমবার দুপুরে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বলেন বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী কয়েক টি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা প্রস্তত করতে বলা হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী হাতে রয়েছে। চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে আগামীকাল বন্যা দূর্গত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে।
Md Abdulla Anondo