আলিফ হাসান,বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি:: রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬ থেকে ঢাকা -পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসীরা।
এছাড়াও বেড়া উপজেলাসহ সিএন্ডবি বাজার অবরোধ করছে আন্দোলনকারীরা:
অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া গেজেটে পাবনা ১ আসনে অন্তর্ভুক্ত বেড়া বাদ দিয়ে পাবনা ২ (সুজানগর-বেড়া) অন্তর্ভুক্ত করায় এ হরতালের ডাক দেন পাবনা -২ আসনের আংশিক এলাকাবাসী।
সীমানা পুনর্বহালের জন্য ৭ টি কারণ তারা তুলে ধরেছেন। সেগুলো হলো
১. ভৌগলিক নিকটবর্তীতা: বেড়া উপজেলা পরিষদ থেকে সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের দূরত্ব ৮ কিলোমিটারের কম। অন্যদিকে, বেড়া উপজেলা পরিষদ থেকে সুজানগর উপজেলা পরিষদের দূরত্ব প্রায় ৩৮-৪০ কিলোমিটার। সুতরাং ভৌগলিক বাস্তবতায় সাঁথিয়ার সঙ্গেই বেড়ার সংযোগ সবচেয়ে যৌক্তিক।
২. ভোটার সংখ্যার ভারসাম্য: সাঁথিয়ার (১০টি ইউনিয়ন ১ টি পৌরসভা) ভোটার সংখ্যা: ৩১৭০৩৮ জন। এই সংখ্যা নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে, বেড়া-সুজানগর একত্র করলে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪৬২৭৬৭ জন, যা অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অতিরিক্ত।
৩. নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা: নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী ভোটার পার্থক্য সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে। বেড়া ও সুজানগর একত্র করলে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি হয়ে যায়, যা নীতিমালা বহির্ভূত।
৪. শিক্ষা ও সংস্কৃতির মিল: সাঁথিয়া, বেড়া ও সুজানগর উপজেলার জনগণের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারা এক ও অভিন্ন। তাই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও সাঁথিয়া-বেড়ার সংযুক্তিই যৌক্তিক।
৫. নদীবন্দর ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: বেড়া উপজেলায় ৩টি প্রধান নদীবন্দর রয়েছে: বেড়া পোর্ট, নগরবাড়ি ঘাট, কাজিরহাট ঘাট, পূর্বের সীমানায় ১টি বন্দর পাবনা-১ এ এবং ২টি বন্দর পাবনা-২ এ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ভারসাম্যপূর্ণ। যদি সুজানগরের সঙ্গে বেড়া উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৪টি ইউনিয়ন যুক্ত করে দিলে ৩টি নদীবন্দরই পাবনা ২ সুজানগরে চলে যায়, অন্যদিকে, সাঁথিয়া উপজেলার কোন নদী বন্দর থাকে না যার কারণে কোন উন্নয়ন হবে না। সাঁথিয়ার সঙ্গে বেড়ার সড়ক যোগযাযোগ দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার আর বেড়া উপজেলা থেকে সুজানগর উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। সুতরাং একজন সাধারন নাগরিকের জন্য, তাই প্রশাসনিক বা দাপ্তরিক কাজ করা খুবই কষ্টকর।
৬. প্রশাসনিক ভারসাম্য: বেড়া আংশিক সুজানগর উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হলে সুজানগরে ২টি পৌরসভা ও ১৯ টি ইউনিয়ন হবে। অন্যদিকে, সাঁথিয়া উপজেলাতে মাত্র ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন রয়েছে। যা সুজানগর উপজেলার অর্ধেক হয়। সুতরাং সাথিয়া উপজেলার চেয়ে সুজানগর উপজেলা দ্বিগুন হয়। যা কোনোমতেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে প্রশাসনিক সেবায় অসামঞ্জস্যতা তৈরি হবে।
৭. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: অতীতেও ৪০ বছরের ইতিহাসে নির্বাচন কমিশন ভৌগলিক বাস্তবতা, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও যোগাযোগের সুবিধা বিবেচনা করে পাবনা-১ (সাঁথিয়া বেড়া আংশিক) ও পাবনা-২ (সুজানগর+ বেড়া আংশিক) নির্ধারণ করেছিল। যাহা ছিলো সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত ও বাস্তব সম্পূর্ণ।
এলাকাবাসী জানান, ভৌগলিক অবস্থান, ভোটার ভারসাম্য, নীতিমালা, শিক্ষা-সংস্কৃতি, নদী বন্দর, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা বিবেচনায় সাঁথিয়া আংশিক বেড়া পুনর্বহালই একমাত্র যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান।
Revolt News BD