ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সন্তানের অপেক্ষায় শানু: ১২ বছর ধরে পায়ে শিকলবন্দী এক অসহায় মা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 12, 2025 ইং
শানু ছবির ক্যাপশন: শানু
ad728

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:: ১২ বছর ধরে পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন শানু, যিনি আসলে একজন মা। তার ক্ষতির পরিমাণ কেবল তার মানসিক অবস্থাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি গভীর মানবিক সংকটের প্রতীক। 

শানুর শৈশব ছিল আলোকিত। নন্দীবাড়ীর মৃত আব্দুস সালাম ও আসমা বেগমের এই কন্যা ছোটবেলা থেকেই তার মেধা ও আচরণের জন্য প্রতিবেশীদের মাঝে পরিচিতি অর্জন করে। ২০০৬ সালে যখন শানুর বিয়ে হয়, তখন তিনি সংসারের জন্য নতুন একটি আশা নিয়ে বলেছিলেন, কিন্তু দাম্পত্য জীবনের দেড় বছরের মাথায় তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। 

বিচ্ছেদের পর স্বামীর কাছে রেখে যাওয়া একমাত্র বাচ্চার শূন্যতা তাকে ধীরে ধীরে মানসিক রোগে আক্রান্ত করে। সচেতন না থাকায় এবং পরিবারের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসার অভাবে তার অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। অবশেষে, পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয় তাকে একটি ঘরের মধ্যে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শানুর এক ভাই আছে যে দর্জির কাজ করে, কিন্তু তার উপার্জনও পরিবারের সবার জন্য যথেষ্ট নয়। তাদের পরিবারে চার সদস্যের সংসার, যার মধ্যে শানুর মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং মায়ের বৃদ্ধ বয়স রয়েছে। প্রতিবেশীরা শানুর জন্য সরকারের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন, তারা বিশ্বাস করেন, সঠিক চিকিৎসা পেলে শানু আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হবে।

শানুর মা, আসমা বেগম, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “টাকার অভাবে মেয়েকে ভালো চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। সারাদিন মেয়ের পিছনে লেগে থাকতে হয়। আমি মরে গেলে কে দেখাশুনা করবে তাকে?”

এ বিষয়ে মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, তিনি আগে থেকে বিষয়টি জানতেন না এবং দ্রুত শানুর জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শানুর গল্পটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানবিক সংকটের সময়গুলোতে সমাজের সহযোগিতা ও সহানুভূতি কতটা প্রয়োজন। আমরা সবাই একসঙ্গে শানুর মতো অসহায়দের পাশে দাঁড়ালে, মানবতার প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারব।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Revolt News BD

কমেন্ট বক্স