প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 16, 2026 ইং
ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কারে জাতীয় নির্বাচনের পর পদক্ষেপ: জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানের আশ্বাস

মামুনুর রশীদ মামুন | ময়মনসিংহঃ
দীর্ঘদিনের বিতর্ক,অভিযোগ ও অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবকে পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠনে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। জাতীয় নির্বাচনের পর এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবিসংবলিত একটি আবেদনপত্র বুধবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) বিকাল ৪টা ১২ মিনিটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। জেলা প্রশাসক ও একই সঙ্গে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সভাপতি বরাবর আবেদনটি জমা দেন সংস্কার কমিটির নেতারা। আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির সদস্য সচিব শিবলী সাদিক খান, মূখ্য সংগঠক জহর লাল দে ও মূখ্য সংগঠক আরিফ রেওগীর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রোকসানা আক্তার,মোমেনা আক্তার, আজাহারুল ইসলামসহ ময়মনসিংহে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। আবেদনে উল্লেখ করা হয়,দেশের অন্যান্য জেলার মতো ময়মনসিংহেও প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি স্বচ্ছ,গণতান্ত্রিক ও পেশাভিত্তিক প্রেসক্লাব পরিচালনার বিধান থাকলেও বাস্তবে তার ব্যতিক্রম ঘটছে। এ কারণে অতীতে বিভাগীয় কমিশনার,ডিআইজি (রেঞ্জ), জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে একাধিকবার স্মারকলিপি ও লিখিত আবেদন দাখিল করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের দাবি আদায়ের আন্দোলনের অংশ হিসেবে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়। ওই প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবীবা মীরার তত্ত্বাবধানে সাংবাদিকদের নামের তালিকাসহ একটি সর্বজনগ্রাহ্য খসড়া গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও দাখিল করা হয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সংস্কার কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়,ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব—যা জেলার কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকদের বাতিঘর হিসেবে পরিচিত—সেখানে অসাংবাদিকদের সদস্যপদ বহাল থাকা পেশাগত নীতিমালার পরিপন্থী। এ বিষয়ে পূর্বেও একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে দাবি জানানো হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি।
আবেদনে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী (এডহক) কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গঠনতন্ত্র সংশোধন ও সংযোজন করে ‘প্রেসক্লাব ফর প্রেসম্যান’ নীতির আলোকে সকল কর্মরত পেশাদার সাংবাদিককে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়,কোনো সরকারি কর্মকর্তা পদাধিকার বলে প্রেসক্লাবের সভাপতি থাকতে পারবেন না। সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের মধ্য থেকেই সভাপতি নির্বাচিত হতে হবে। পাশাপাশি অসাংবাদিক ও সাবেক সব সদস্যপদ বাতিল করে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের দাবি জানানো হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে লেখনির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে এলেও প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসের মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকায় পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিরসনে জেলা প্রশাসকের দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা কামনা করা হয়। সংস্কার কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়—যে কোনো পেশাজীবী সংগঠনে ভিন্ন পেশার কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই; ঠিক তেমনি সাংবাদিকদের সংগঠনে অসাংবাদিক থাকার সুযোগও গ্রহণযোগ্য নয়। ‘প্রেসক্লাব ফর প্রেসম্যান’ নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতীয় নির্বাচনের পর প্রেসক্লাব সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা হবে।
এ বিষয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের সদয় দৃষ্টি,আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Revolt News BD