প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 13, 2026 ইং
শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার জরুরি: প্রধান উপদেষ্টা

দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ভুল পথে পরিচালিত ও চাকরিনির্ভর ডিগ্রিকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে যেন তারা কেবল চাকরির আবেদন লিখতেই পারদর্শী হয়। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীতে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা–২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মানুষ দাস হিসেবে জন্মায় না, জন্মায় সৃজনশীল সত্তা হিসেবে; দাসত্বের ঐতিহ্য থেকেই ‘চাকরি’ ধারণার উৎপত্তি, যা মানুষের সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করে এবং সৃজনশীল মানুষকে দাসে পরিণত করা অপরাধের শামিল। তিনি সার্কের মূল দর্শনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা সার্ক শব্দটিই ভুলে গেছি, যা লজ্জাজনক; অথচ সার্কের উদ্দেশ্য ছিল একত্রিত হওয়া, মতবিনিময় করা ও একে অপরের কাছ থেকে শেখা। সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ঢাকায় কিছু একটা ঘটেছিল বলেই আজ তিনি ও তার সহকর্মীরা এই দায়িত্বে আছেন; তরুণরা কোনো আবেগে নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় নেমে বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে জেনেশুনেই জীবন দিয়েছে এবং এমন এক শক্তিকে উৎখাত করেছে, যা কল্পনাতীত ছিল। তিনি বলেন, আন্দোলনকারী ছাত্ররা নিজস্ব চার্টার তৈরি করেছে, সংবিধান পরিবর্তনের দাবিও তুলেছে এবং তারা মনে করে বিদ্যমান সংবিধানই সমস্যার মূল; এরই মধ্যে তারা রাজনৈতিক দল গঠন করেছে এবং শিগগির নির্বাচনি রাজনীতিতে সক্রিয় হবে, যারা গতকাল ক্লাসরুমে ছিল তারা আজ রাস্তায় এবং আগামীতে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে যাবে—পুরোনো ব্যবস্থায় চলা আত্মঘাতী, দ্রুত পরিবর্তন এখন অপরিহার্য। শিক্ষা সংস্কারে ছাত্রদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্র নেতাদের ডেকে জিজ্ঞেস করা উচিত কেন তারা ক্লাসরুম ছেড়ে রাস্তায় এলো, কারণ শিক্ষা একপাশে আর তরুণরা অন্যপাশে—এই অসামঞ্জস্য টিকে থাকতে পারে না। সৃজনশীলতাই উদ্যোক্তা হওয়ার ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তরুণদের চাকরিপ্রার্থী না হয়ে চাকরিদাতা হতে শেখানো যাবে না; কল্পনাশক্তিই মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলেও আমরা শিশুদের ‘বাস্তববাদী হও’ বলি, অথচ মানুষ বাস্তববাদী হওয়ার জন্য জন্মায়নি। ঢাকার দেয়ালচিত্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সাধারণ পরিবারের তরুণরা নিজেদের টাকায় রং কিনে দেয়ালে সমাজের ভুলগুলো তুলে ধরছে—সৃজনশীল শিক্ষা আসলে সেখানেই ছিল, আমরা তা বুঝতে পারিনি। তিনি আরও বলেন, শিগগির ছাত্ররাই শিক্ষা কেমন হবে তার সংজ্ঞা দেবে এবং আমাদের দায়িত্ব হবে তাদের সহায়তা করা; এখন শুধু ছেলেরা নয়, মেয়েরাও দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, যারা একসময় ঘরে বন্দী ছিল তারা আজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজের কথা বলছে। বক্তব্যের শেষাংশে আঞ্চলিক ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমরা একটি পরিবার, রাজনীতিবিদরা আমাদের তা ভুলিয়ে দিতে চায়—নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করা জরুরি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Revolt News BD