প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 12, 2026 ইং
আইনের আশ্বাসই কি শেষ ভরসা? ময়মনসিংহে সাংবাদিক পরিবার ফের হামলার শিকার

মামুনুর রশীদ মামুনঃ
ময়মনসিংহে এক সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা সহিংসতার ঘটনা আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে একই সন্ত্রাসী চক্রের হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার ময়মনসিংহ প্রতিনিধি শেখ মো. ফুয়াদ ও তাঁর স্ত্রী মুমিনুননেছা। অভিযোগ উঠেছে,ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালে হলেও চার বছর পেরিয়ে গেলেও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এর আগে, ২০২২ সালে ময়মনসিংহে সাংবাদিক শেখ মো. ফুয়াদের স্ত্রী মুমিনুননেছার ওপর হামলার ঘটনা দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ওই সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পূর্বশত্রুতার জেরে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হেলাল উদ্দিন ও তার সহযোগীরা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে মুমিনুননেছাকে ইভটিজিং ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। ওই ঘটনার পর কোতোয়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার তদন্ত সাপেক্ষে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দিলেও,অভিযোগ রয়েছে—ঘটনাটি কার্যকর তদন্ত ও বিচারের পর্যায়ে গড়ায়নি। স্থানীয়রা জানান,অভিযুক্ত সন্ত্রাসী চক্র এর আগেও একাধিকবার সাংবাদিক শেখ মো. ফুয়াদের ওপর হামলা চালিয়েছে। কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় তারা বারবার একই ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে। সম্প্রতি আবারও সেই পুরনো সন্ত্রাসী চক্রের হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক শেখ ফুয়াদ ও তাঁর স্ত্রী। এতে নতুন করে আতঙ্কে রয়েছেন পরিবারটি। শেখ ফুয়াদের অভিযোগ,“আমি ও আমার পরিবারের বর্তমান নিরাপত্তাহীন অবস্থার জন্য পুলিশ প্রশাসনের নির্লিপ্ততাই দায়ী। যদি শুরুতেই সঠিক,নিরপেক্ষ ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতো,তাহলে বারবার আমাদের এভাবে হামলার শিকার হতে হতো না।” এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারকে টার্গেট করে চলমান সহিংসতা শুধু ব্যক্তি নয়,স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্যও একটি গুরুতর হুমকি। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত,অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। চার বছর ধরে চলা এই সহিংসতার ধারাবাহিকতা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। এখন দেখার বিষয়,এবারের ঘটনায় সত্যিই কি আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত হয়,নাকি আবারও সময়ের আড়ালে চাপা পড়ে যাবে একজন সাংবাদিক পরিবারের নিরাপত্তার প্রশ্ন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Revolt News BD