
বাংলাদেশে বলপূর্বক গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তিসহ ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে কমিশনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মাইনুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, গুম ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং র্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় সমন্বিত কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়। কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রায় ২৫ শতাংশ গুমের অভিযোগে র্যাব এবং ২৩ শতাংশে পুলিশ জড়িত ছিল, পাশাপাশি ডিবি, সিটিটিসি, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া গেছে। কমিশন সুপারিশ করেছে অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ বাতিল বা মৌলিক সংশোধন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০০৩-এর ১৩ ধারা বাতিল, সব নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনা, বাধ্যতামূলক মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’গুলোকে সত্য ও স্মৃতির প্রতীক হিসেবে জাদুঘরে রূপান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া। কমিশনে জমা পড়া ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সক্রিয় বিবেচনায় রাখা হয়, যার মধ্যে ২৫১ জন গুম এবং ৩৬ জনের গুম-পরবর্তী মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজদের ভাগ্য নির্ধারণে কমিশন দেশজুড়ে বিভিন্ন সম্ভাব্য অপরাধস্থল, আয়নাঘর ও ডাম্পিং স্পট পরিদর্শন করে এবং অজ্ঞাত মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানের ডিএনএ ডাটাবেজ গঠনের সুপারিশ করেছে। কমিশন মনে করে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে দেশে গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ভিত্তি তৈরি হবে।