
দেশের সব স্থলবন্দরে সেবা মাশুল ৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন করে ব্যয়চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ার শঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (বিএসপিএ) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। অন্য বন্দরের তুলনায় সেবার পরিমাণ ও ব্যয় বেশি হওয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী বেনাপোলে যাত্রী মাশুল বাড়িয়ে ৫২ টাকা ২৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৪৯ টাকা ৭৯ পয়সা। আমদানি করা বাস, ট্রাক ও লরি প্রবেশে মাশুল ১৭৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮৪ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে। মোটরকার, জিপ, পিকআপ ও থ্রি-হুইলারের জন্য মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা ৮২ পয়সা এবং মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের জন্য ৩৬ টাকা ৯৫ পয়সা। পাশাপাশি ট্রাক ও লরির ক্ষেত্রে ওজন মাপার যন্ত্র ব্যবহার, কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণ, যানবাহন ইয়ার্ডে রাতযাপন ও গুদামে পণ্য রাখার ক্ষেত্রেও বাড়তি মাশুল যুক্ত হয়েছে, ফলে বেনাপোল বন্দরের প্রতিটি সেবায় খরচ বাড়ছে। বেনাপোলের বাইরে অন্যান্য স্থলবন্দরেও একই হারে ৫ শতাংশ মাশুল বৃদ্ধি কার্যকর হবে, যেখানে যাত্রী মাশুল ৫২ টাকা ২৭ পয়সা, বাস-ট্রাক-লরির জন্য ১৫৯ টাকা ২২ পয়সা, মোটরকার ও জিপের জন্য ৯৫ টাকা ৫২ পয়সা এবং মোটরসাইকেল ও থ্রি-হুইলারের জন্য ৪৭ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। পণ্যভেদে আমদানির ক্ষেত্রেও মাশুল বাড়ানো হয়েছে। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল ব্যয় বাড়ায় নিয়মিত সমন্বয়ের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, মাশুল বৃদ্ধির ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে ভোগ্যপণ্যের দামে চাপ সৃষ্টি হবে এবং এর বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাকেই বহন করতে হবে।