প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 12, 2025 ইং
এআই–জালিয়াতি ঠেকাতে নতুন আইন আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক।
দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের মাধ্যমে জালিয়াতি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার জরুরি ভিত্তিতে পৃথক আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে। ভিসা জালিয়াতি থেকে শুরু করে নানা ধরনের প্রতারণা এতটাই বেড়ে গেছে যে সরকারের ভাষায় এটি এখন এক ধরনের ‘জালিয়াতির সমুদ্র’। এ কারণে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকেরা অযথা বিড়ম্বনায় পড়ছেন। এসব বিবেচনায় আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন, জালিয়াতকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার মতো একটি শক্তিশালী আইন অবিলম্বে প্রণয়ন করতে হবে। বৈঠকে এই পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি করার কথাও উঠে আসে। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, এআই আসার পর জালিয়াতির পরিধি ভয়াবহভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ভিসা জালিয়াতি, পরিচয় জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা সহ নানা ধরণের কর্মকাণ্ডে জড়িত চক্রগুলো দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে। তাই নতুন আইনটি অত্যন্ত দ্রুত করা হবে এবং এর মাধ্যমে প্রতিটি অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হবে।
বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ, রেজিস্ট্রেশন সংশোধনী অধ্যাদেশ এবং আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের সংশোধনী–২০২৫–এর খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র গ্রেনাডাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই বিদায়ী উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তাঁদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে ধন্যবাদ প্রস্তাব পড়ে শোনান পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। দিনব্যাপী বৈঠক ও সংবাদ ব্রিফিং ঘিরে সরকারের নীতি–সংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয় পরিষ্কার হয়েছে, যার মধ্যে এআই–জালিয়াতি রোধে নতুন আইন প্রণয়ন সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Revolt News BD