প্রিন্ট এর তারিখঃ May 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 1, 2025 ইং
কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহরের’ দুই ট্যাংকারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, উদ্ধার ৪ বাংলাদেশি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
কৃষ্ণসাগর অতিক্রমের সময় রাশিয়ার কথিত ‘ছায়া নৌবহরের’ জ্বালানি পরিবহনকারী দুই ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের নৌবাহিনী স্বীকৃত এই হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয় গাম্বিয়ার পতাকাবাহী ‘এমটি কায়রোস’ ও ‘বিরাট’ নামের দুটি তেলবাহী জাহাজ। তুরস্কের উপকূলের কাছে শুক্রবার প্রথম হামলা চালানো হয় এবং পরদিন শনিবার ‘বিরাট’–এ আরও একটি হামলার খবর পাওয়া যায়। বিবিসি যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দ্রুতগতির নৌ–ড্রোনগুলো ট্যাংকারে আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আকাশে ধোঁয়ার ঘন কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। তুরস্কের কোস্ট গার্ড ‘এমটি কায়রোস’ থেকে ২৫ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে, যাদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সবাই নিরাপদে আছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো। ইউক্রেনের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে ‘সি বেবি’ নামের উন্নতমানের নৌ–ড্রোন, যা তৈরি করেছে দেশটির নিরাপত্তা পরিষেবা (এসবিইউ)। তাদের দাবি, রাশিয়ার জ্বালানি খাত যুদ্ধ–অর্থায়নের প্রধান উৎস হওয়ায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এসব ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া পুরোনো ও মালিকানাগতভাবে অস্পষ্ট শতাধিক জাহাজ নিয়ে গোপন ‘ছায়া নৌবহর’ তৈরি করে, যেগুলোর নিবন্ধন, মালিকানা এবং বীমা নিয়ে বহু প্রশ্ন রয়েছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার দুই ট্যাংকারই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। কৃষ্ণসাগরের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে ‘কায়রোস’ এবং আরও পূর্বদিকে ‘বিরাট’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় কোথাও হতাহতের খবর না মিললেও তেলবাহী ট্যাংকারে ধারাবাহিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Revolt News BD