প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 30, 2025 ইং
সরকারের দাবি— বিভ্রান্তিকর তথ্য ছাড়া কোনো কনটেন্ট অপসারণ চাওয়া হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক,
গুগলের সাম্প্রতিক ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধের সংখ্যা প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে— দেশের গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ভিডিও, অনলাইন নিবন্ধ কিংবা রাজনৈতিক সমালোচনামূলক কোনো কনটেন্ট সরানোর জন্য সরকার কখনো কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করেনি। কেবলমাত্র মিথ্যা তথ্য, প্রোপাগান্ডা বা বেআইনি মানহানিকর কনটেন্ট সম্পর্কেই রিপোর্ট করা হয়েছে।
সরকার জানায়, বিভ্রান্তিকর বা চরিত্রহননমূলক তথ্য শনাক্ত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মাধ্যমে বিষয়গুলো বিটিআরসিতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া অনলাইন জুয়া, প্রতারণা, সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা–বিরোধী কনটেন্টও রিপোর্টের আওতায় এসেছে।
সরকার আরও জানায়, বাংলাদেশে বর্তমানে কোনো দলীয় বট বাহিনী বা সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ কাঠামো পরিচালিত হয় না। বিটিআরসি বা অন্য কোনো সংস্থা ইচ্ছামতো কনটেন্ট নামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে না। তাই যেকোনো অভিযোগ কর্তৃপক্ষকে জানালেও সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম।
গুগলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়— ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মোট ২৭৯টি অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। যা আগের সরকারের একটি ছয় মাসের সময়ে পাঠানো অনুরোধের তিন ভাগের এক ভাগেরও কম। এর আগের ছয় মাসে অনুরোধ ছিল মাত্র ১৫৩টি। গুগলের রিপোর্ট অনুযায়ী এসব অনুরোধের বড় অংশই ‘Not enough information’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।
সরকার দাবি করেছে, ওই সময়টিতে দেশ বিদেশি মিথ্যা প্রচারণা, প্রোপাগান্ডা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী সাইবার ক্যাম্পেইনের বড় চাপের মুখে ছিল। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পর অনলাইনে ধারাবাহিক মিথ্যা প্রচারণা সরকারের সাইবার নিরাপত্তা কার্যক্রমকে জটিল করে তোলে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং অনলাইন নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট প্ল্যাটফর্মগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
সরকার আরও জানায়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশে বড় আন্দোলন, সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক ঘটনা এবং গণপিটুনিতে হত্যার মতো বিভিন্ন পরিস্থিতি দেখা দেয়। এসব ঘটনায় অনলাইনে উসকানি ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও বেড়ে যায়। তাই নাগরিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং করা হয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হয়েছে বলেও জানায় সরকার। ফ্রিডম হাউসের ফ্রিডম অন দ্য নেট–২০২৫ রিপোর্টে বাংলাদেশ এ বছর ইন্টারনেট স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বিশ্বে সর্বোচ্চ অগ্রগতি অর্জনকারী দেশ হিসেবে স্থান পায়— স্কোর ৪০ থেকে বেড়ে হয় ৪৫। শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের ফলেই এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় রিপোর্টে।
সরকারের অভিযোগ, গুগলের তথ্য প্রকাশের আগে কোনো গণমাধ্যম সরকারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেনি। ব্যাখ্যা ছাড়া খবর প্রকাশ করাকে দায়িত্বশীলতার ঘাটতি বলে মন্তব্য করেছে সরকার।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Revolt News BD