আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে ঘিরে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। ভোটারদের সুবিধা ও বিভ্রান্তি এড়াতে গণভোটের ব্যালটপেপারকে সাধারণ জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে আলাদা রঙে ছাপানো হবে বলে জানিয়েছেন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
আইন উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোটে একটি মাত্র প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে এবং ভোটারদের “হ্যাঁ” বা “না”—এ দুটির যেকোনো একটি পছন্দ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনের জন্য যেসব কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেবে, তারাই একই সঙ্গে গণভোট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। এতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের প্রয়োজন হবে না এবং একই দিনে ভোট গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া আরও সুসংগঠিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিনি আরও জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ করা ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব এবং আরও ৪টি নির্দিষ্ট প্রশ্নে জনমত যাচাইয়ের জন্যই গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সরকার এসব সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত ২০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের আগের বৈঠকে গণভোট আইন নীতিগত অনুমোদন পায়। সেই ধারাবাহিকতায় আজ গণভোট অধ্যাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের কাছাকাছি পৌঁছেছে। উপদেষ্টা পরিষদ আশা করছে, আজ বা কালকের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট গেজেট প্রকাশ হতে পারে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের দিনই একইসঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যাতে দেশের বড় নীতি সংস্কারগুলোতে জনগণের সরাসরি মতামত নিশ্চিত করা যায়।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গণভোটকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই আলোচনা বেড়েছে। কোন রঙের ব্যালট ব্যবহৃত হবে, ভোটের কেন্দ্রে আলাদা বাক্স থাকবে কি না, কিংবা ভোটের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা কেমন হবে—এসব প্রশ্নে আগ্রহ দেখা দিয়েছে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে। তবে সরকার জানিয়েছে, ব্যালটের রঙ ভিন্ন করা এবং নির্বাচনী দায়িত্ব একই কর্মকর্তাকে দেওয়া—এই ব্যবস্থা ভোটারদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করবে