প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 23, 2025 ইং
পশ্চিমবঙ্গে নতুন মসজিদ নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা, রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে তীব্র আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবির মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় আগামী ৬ ডিসেম্বর ‘বাবরি মসজিদ’ নামে একটি নতুন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
ঘোষণাটি প্রকাশ্যে আসার পরই বিজেপি অভিযোগ তুলেছে—এটি ভোটের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক আবেগ উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টা। বিজেপির মুখপাত্র ইয়াসের জিলানি বলেন, “এ ধরনের ঘোষণা ভোটের রাজনীতির জন্যই দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের কিছু নেতা দীর্ঘদিন ধরেই বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, এটি তারই আরেক উদাহরণ।” তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূল আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে হুমায়ুন কবির তার অবস্থানেই অনড় থেকে বলেছেন, নির্ধারিত দিন অনুযায়ী বেলডাঙায় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে এবং এটি সম্পূর্ণ করতে তিন বছর সময় লাগবে। তার ভাষায়, “মসজিদ নির্মাণ ধর্মীয় অধিকার। বহু মুসলিম নেতা এতে উপস্থিত থাকবেন।”
এ বিষয়ে কংগ্রেস ভিন্নমত তুলে ধরে প্রতিক্রিয়া জানায়। দলটির নেতা সন্দীপ দিক্ষিত বলেন, “কেউ মসজিদ বানালে তার সঙ্গে বাবরের কী সম্পর্ক? ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের অধিকার সবাই রাখে।” একই সুরে কংগ্রেস এমপি সুরেন্দ্র রাজপুত বলেন, “মসজিদ, মন্দির, চার্চ—সবই মানুষের উপাসনালয়। এগুলো নিয়ে অযথা বিতর্ক তোলার কোনো প্রয়োজন নেই।”
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা দিয়েছে অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনও। সংগঠনের প্রধান মাওলানা সাজিদ রাশিদি বলেন, “ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাবরি মসজিদের নামে নতুন মসজিদ তৈরি হলেও অযোধ্যার আসল বাবরি মসজিদের ধর্মীয় গুরুত্ব কখনোই হারিয়ে যাবে না।” তিনি মনে করেন, নাম ব্যবহার করলেও এটি কোনো ধর্মীয় বিধান লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে না।
৬ ডিসেম্বর অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পূর্তি। ঠিক সেই দিনেই নতুন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিজেপি বলছে, সময় নির্বাচন করে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে; তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক পাল্টা মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনা ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মাঠ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, আর সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Revolt News BD