
দীর্ঘ
প্রতীক্ষা, চোখের নিচে ক্লান্তির রেখা
আর বুকভরা হাহাকার—সবকিছুকে ছাপিয়ে আজ আদালত চত্বরে
ফুটে উঠল এক ভিন্ন
দৃশ্য। ন্যায়বিচারের কাঙ্ক্ষিত রায় ঘোষণার পর
আহত ও নিহতদের স্বজনদের
মুখে দেখা গেল স্বস্তির
আলো, আর সেই আলোর
সাথেই ঝরে পড়ল অশ্রু—বেদনার নয়, আনন্দের।
আজ বেলা ১২টার দিকে
আদালতের বিচারক মামলার রায় পড়া শুরু
করলে পুরো আদালতকক্ষে নেমে
আসে নিস্তব্ধতা। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা হাত ধরে দাঁড়িয়ে
ছিলেন। রায়ে আসামিদের উপযুক্ত
শাস্তি ঘোষণার পরপরই স্বজনদের চোখ ভিজে ওঠে
আবেগে। কেউ হাত তুলে
তাকালেন আকাশের দিকে, কেউ আবার ফুঁপিয়ে
কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আজ আমাদের কষ্টের
কিছুটা হলেও সান্ত্বনা মিলল।”
এক নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে
বলেন, “আমি আমার ছেলেকে
আর ফিরে পাব না,
কিন্তু আজ অন্তত তার
হত্যার বিচার পেলাম। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া।”
আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত তার আত্মীয়স্বজনরা তাকে
জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন।
এদিকে আহতদের পরিবারগুলোও রায়ের পর অনুভব করেন এক ধরনের নিরাপত্তা ও সন্তুষ্টি। একজন আহতের ভাই বলেন, “এই রায়ের জন্য আমরা দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছি। আজ মনে হচ্ছে, আমাদের কষ্ট আদালত বুঝেছে।”
রায়কে
ঘিরে আদালত এলাকায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা
ব্যবস্থা। বিচার শেষে স্বজনদের অনেকেই
বাইরে এসে একে অপরকে
আলিঙ্গন করেন। কেউ কেউ দোয়া
পাঠ করেন নিহতদের রুহের
মাগফিরাত কামনা করে।
আইনজীবীরাও
রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি ন্যায়বিচারের এক
গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তারা আশা প্রকাশ
করেন, এই রায় ভবিষ্যতে
এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভূমিকা রাখবে।
বিচার
পেয়ে আনন্দে ভাসলেও স্বজনদের চোখে ছিল না
পাওয়া মানুষগুলোর শূন্যতার ছাপ। তবু আজকের
রায় তাদের মনে কিছুটা হলেও
প্রশান্তি এনে দিয়েছে—এই
বিশ্বাস নিয়েই আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন সবাই।